Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ব্যালট দেখানোর চাপ ও ভোট-পরবর্তী হামলার আতঙ্কে ভোটাররা

বিশেষ প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১০:০১ পিএম
ব্যালট দেখানোর চাপ ও ভোট-পরবর্তী হামলার আতঙ্কে ভোটাররা

ছবি: প্রতীকী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে  আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপার দেখিয়ে ভোট দেওয়ার চাপ, অন্যদিকে ভোটের পর হামলা ও মামলার ভয়—এই দুই সংকটে আছেন সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা বেশি ভয়ের মধ্যে আছেন।

যশোরের বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে অভিযোগ আসছে, একশ্রেণীর প্রভাবশালী নেতাকর্মী ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তাদের সাফ কথা— ‘ভোট দিতে গেলে ব্যালট দেখিয়ে দিতে হবে, না পারলে বাড়ি থাকো।’

অভিযোগ রয়েছে, ভোটারদের শেখানো হচ্ছে, তারা যেন বুথের ভেতরে গিয়ে ব্যালটে সিল মারার পর সেটি ভাঁজ না করে বাইরে নিয়ে আসেন। ওই সময় কক্ষে থাকা নির্দিষ্ট দলীয় এজেন্টরা দেখে নেবেন ভোটটি কোথায় দেওয়া হয়েছে। এরপর এজেন্টের ইশারায় সেটি ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। ভোটারদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, যদি এমনটাই হয় তবে ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা কোথায় থাকল?

তবে সাধারণ মানুষের কাছে ভোটের দিনের চেয়েও ‘ভোট-পরবর্তী’ সময়টা বেশি আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মূল ভয় হলো নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর হামলা ও মামলার শিকার হওয়া।

যশোরের বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলার কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোট তো একবেলার বিষয়, কিন্তু ফলাফল হয়ে গেলে যারা হারবে বা যারা জিতবে—উভয় পক্ষ থেকেই আমাদের ওপর চড়াও হওয়ার ভয় আছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভাবছেন, ভোট দিতে গিয়ে যদি জীবন ও ঘরবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে কেন্দ্রে না যাওয়াই নিরাপদ।

গ্রামাঞ্চলের মোড়ে মোড়ে আড্ডায় বা চায়ের দোকানে প্রভাবশালীরা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে , যারা তাদের কথা শুনবে না, নির্বাচনের পর তাদের ওপর ‘অজ্ঞাতনামা’ মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করা হবে। এই 'মামলা-সংস্কৃতি'র ভয়ে অনেক সাধারণ মানুষ এখন থেকেই কুঁকড়ে আছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, অনেকে ভাবছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার চেয়ে ঘরে থাকাই শ্রেয়।

ভোটারদের অভিযোগ, গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে চিহ্নিত নেতাকর্মীরা রাতভর মহড়া দিচ্ছে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের মনে আস্থার অভাব প্রকট। সাধারণ ভোটারদের দাবি, কেবল ভোটকেন্দ্র নয়, নির্বাচনের পর তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার জানান, ভোট প্রদানের পর ব্যালট পেপার ভাজ না করে  গোপন বুথের বাইরে আনার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজটি করে বা কারো কারণে করতে বাধ্য হয় তাহলে প্রিজাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)