Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ বিএনপি’র অপকর্মের খতিয়ান শিরনামে বই প্রকাশ

২৪'র জুলাই পরবর্তী ৫’শ দিনে খুন ২১২, ধর্ষণ ৭৫

বিশেষ প্রতিবেদক বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
২৪'র জুলাই পরবর্তী ৫’শ দিনে খুন ২১২, ধর্ষণ ৭৫

২৪'র জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ৫০০ দিনে বিএনপি’র যাবতীয় অপকর্ম নিয়ে একটি তথ্যবহুল বই প্রকাশিত হয়েছে।  ৪১৭ পৃষ্ঠার বইটির সচিত্র রঙিন ছবিসহ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে ১৭ বছর মজলুম থাকা দলটি জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে।

মোটা স্বচ্ছ অফসেট কাগজে ছাপা বইটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হত্যা, সাধারণ মানুষ হত্যা, দলীয় কোন্দলে হত্যা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি, দলীয় সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি, ধর্ষণ, টেন্ডারবাজি, লুটপাট ও দখলদারিত্ব, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই, দলীয় কোন্দল, মাদক ও চোরাচালান, মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে এসেছে।

এছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারবিরোধী কার্যক্রম, জুলাই সনদে  বিরোধিতা, গণভোটে বিরোধিতা, প্রশাসনিক সংস্কারে বিরোধিতা, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতি অপসারণে  বিরোধিতা, জুলুম-নির্যাতনসহ ২৮ ধরণের অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বইটির সূচিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে বইটিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

হত্যাকান্ড

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি'র বিরুদ্ধে খুন-হত্যার অভিযোগ জনমনে বারবার গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দলীয় আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সংঘঠিত হত্যাকান্ড রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের হাতে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রাণহানির ঘটনাও আলোচিত হয়েছে। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার পর থেকে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর জুলাই বিপ্লবের ৫০০ দিন পূর্ণ হয়। এ সময়ের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে খুনের শিকার হয়েছেন ২১২ জন। এর মধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতা ২২ জন। সাধারণ মানুষ ৪৭ জন।  দলীয় কোন্দলে নিজেরা খুন হয়েছেন ১৪৩ জন।

ধর্ষণ

দলটির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ওই সময়ের মধ্যে ৭২ জন নারীকে তারা ধর্ষণ করে। ৮৫ জন ধর্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়।

অস্ত্রবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড

উল্লেখিত ৫০০ দিনে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের ৫০ টির অধিক জেলায় শতাধিক নেতাকর্মীর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দলীয় শাস্তি প্রদান করা হয়। একই সময় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, ঠিকাদার,  কৃষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রয়েছেন। বহু ঘটনায় চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, লুটপাট ও ভয় ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে।

সংখ্যালঘু নির্যাতন

সংখ্যালাঘু নির্যাতনের ঘটনাও ওই সময়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, লুটপাট, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, হিন্দু ও রাখাইন পরিবারের বাড়ি ঘরে হামলা, ফসল ও ব্যবসায়িক মালামাল লুট ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনাও উল্লেখযোগ্য ছিল।

সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন

রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সংবাদকর্মীদের উপর হামলা ও হত্যার ঘটনা জাতিকে হতবাক করেছে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে এ সময় সংবাদ সংগ্রহে বাধা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে সাংবাদিককে মারধর, হত্যার হুমকি, ক্যামেরা ভাঙচুর, মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বাদ যায়নি কোনকিছু। 

চুরি,ডাকাতি ও ছিনতাই

দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওই সময়ের মধ্যে চুরি ডাকাতি ছিনতায়ের অভিযোগ দেশ  জুড়ে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তারা জুলাই বিপ্লবের পর গ্রাম থেকে শহরে গরু, ছাগল, ধান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সরকারি চাল থেকে শুরু করে বড় অংকের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে বারবার।

মাদক সেবন ও চোরাচালান

দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাদক চোরাকারবারিতেও ছাড় দেয়নি। এ ঘটনায় তাদের নেতাকর্মীদের নাম একাধিকবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তাদের নামে। একই সাথে প্রায় সব সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ এলাকাতে এ অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলটির উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী মহল বিষয়টিকে ঘিরে কখনো উদ্বেগ প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এছাড়া সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও জোরপূর্বক সেন্সরশিপ, সাংবাদিকদের উপর হামলা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ওয়াজ মাহফিল হামলা, মসজিদের জায়গা দখল করে ক্লাব নির্মাণ, আলেম-ওলামাদের উপর চাপ ,নির্যাতন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বক্তব্য দিয়ে মন্তব্য করা, অন্য ছাত্র সংগঠনের সাথে সংঘর্ষ, দলীয় অন্তকোন্দল, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শারীরিক নির্যাতন হেনস্থা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিক্ষাঙ্গনে  ছাত্রদলের সন্ত্রাস, হল দখল ও সিট বাণিজ্য, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা, টেন্ডার,  চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি, বিএনপি কর্তৃক আওয়ামী ও তার দোসরদের পুনর্বাসন, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী দোসরদের নিষিদ্ধে বিএনপি'র নিশ্চুপ ভূমিকা, আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি'র আঁতাত ও দোস্তি, সভা সমাবেশে আ’লীগ পুণবাসনে বিএনপি নেতাদের আশ্বাস, জুলুম নির্যাতন মামলা বাণিজ্য মাদক ও চোরাচালান, চুরি ডাকাতি ছিনতাই লুটপাট দখলদারিত্ব

আওয়ামী ও তার দোসরদের পুনর্বাসন, আওয়ামী পুনর্বাসনে বিএনপি নেতাদের মসৃণ বক্তব্য, আওয়ামী নেতাদের বিএনপিতে পদায়ন, বিএনপি-আওয়ামী আঁতাতের চিত্র, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী দোসরদের নিষিদ্ধে বিএনপির নিশ্চুপ ভূমিকা উঠে এসেছে সাবলীলভাবে।

বইটিতে গণমাধ্যমের সূত্র দিয়ে বর্ণিত এসব অপরাধে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। হেন মানুষ নেই যে তাদের এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিনরাত্রি যাপন করেননি। সমস্ত ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অনেক নেতাকর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাদের পূণরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে।

ড. আরিফ আবেদীন সম্পাদিত বইটি ১ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)