মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
গণমানুষের সাথেে একাকার মণিরামপুরের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক ছবি: ধ্রুব নিউজ
“স্বপ্নের দোলনায় দোল খেতে খেতে / ভুলে যায় হতাশার নামতা ছিল যত। / স্বপ্নের প্রহর গুনে জেগে উঠি / অবিরাম স্বপ্নের নদী সাঁতরাই...” — নিজের লেখা কবিতার মতোই মণিরামপুরবাসীকে এক নতুন আগামীর স্বপ্ন দেখাতে চান যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী এনামুল হক।
কবিরা যেমন স্বপ্ন দেখেন এবং জাতিকে স্বপ্ন দেখান, তেমনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি যেন এক কাঙ্ক্ষিত ‘সোনালি শহর’ গড়ার শপথ নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রচারণার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তার গণসংযোগে কোনো ক্লান্তির ছাপ নেই; বরং ‘অস্থিরতার দাঁড় টেনে’ তিনি যেন এক ‘সম্ভাবনার নীল যমুনা’র দিকে সাহসের সাথে পাড়ি জমাচ্ছেন।
একাধিক সভায় গাজী এনামুল হক তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মণিরামপুরের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তিনি এই নির্বাচনকে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনেকটা তার কবিতার মতোই— যেখানে ‘নিদাঘ চৈত্রের দীর্ঘশ্বাস’ আর ‘ফারাক্কার মরণ ছোবল’ জনপদকে জীর্ণ করেছে, সেখানে তিনি আনতে চান ‘মুক্তা দানার সাহস’। তার মতে, এটি শাসনের রাজনীতি নয়, বরং মানুষের সেবার রাজনীতি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলছেন, আপনার একটি ভোট কেবল প্রতীকের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণের পক্ষে আপনার দৃঢ় অবস্থান।
দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও টেন্ডারবাজি উচ্ছেদের অঙ্গীকার যেন ‘শৈশবের সুঘ্রাণে’ ফেরা এক নির্মল সকালের প্রতিশ্রুতি।
তার প্রচারণার একটি অনন্য দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। মণিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক আসরগুলোতে প্রার্থীর কাব্যিক হৃদয়ের প্রতিফলন ঘটছে। যেখানে ‘কাশফুলেরা দোল খেয়ে যায় সবুজ বনে’, তেমনই এক সম্প্রীতির মণিরামপুর গড়ার স্বপ্ন বুনছেন তিনি। অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ও পুরোহিতদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বলিষ্ঠ অঙ্গীকার করা হচ্ছে। এই কর্মসূচিতে প্রার্থীর পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে তরুণকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পুরো প্রচারণাকে একটি বহুমাত্রিক ও উৎসবমুখর রূপ দান করেছে।
নির্বাচনী মাঠ যখন বিভিন্ন অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের নোটিশে উত্তপ্ত, তখন গাজী এনামুল হকের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল। যেন ‘ভোরের শান্ত নদী’র মতো তিনি এগিয়ে চলেছেন সংঘাত এড়িয়ে। গ্রামগঞ্জের চা-দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই তাকে ঘিরে আলোচনা চলছে। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যাচ্ছেন যে, ভোটাররা তাকে কোনো ‘দূরবর্তী প্রার্থী’ নয়, বরং ‘কপোতাক্ষের টলমলে যৌবন জলের’ মতো স্বচ্ছ ও কাছের মানুষ হিসেবেই গ্রহণ করছেন।
গাজী এনামুল হকের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন মণিরামপুর। যেখানে তার কবিতার সেই ‘স্বপ্নের সোনালি শহর’ জুড়ে ‘বিশ্বাসের পায়রাগুলো’ নিরন্তর ডেকে যাবে ‘বাকবাকুম-বাকবাকুম’ সুরে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই তার মূল লক্ষ্য। এখন দিন যত ঘনিয়ে আসছে, জনমনে প্রশ্ন— মণিরামপুরবাসী কি তার এই স্বপ্নের ‘ধ্রুব তারা’র দেখা পাবে? সেই কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি মিলবে কেবল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে।