❒ কেশবপুরের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন হত্যার রহস্য উদঘাটন, দুইজন আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রঞ্জন মন্ডল হত্যাকান্ডে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মিঠুন ধর এবং আব্দুল হান্নান গাজী ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
যশোরের কেশবপুরের কালিচরনপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী রঞ্জন মন্ডল হত্যা রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারী পল্লী চিকিৎসক মিঠুনসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, নিহতের গলার সোনার চেন, আংটি, লাশ বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন। আটককৃরা হলো মণিরামপুরের মহিষদিয়া গ্রামের বিষ্ণুপদ ধরের ছেলে পল্লী চিকিৎসক মিঠুন ধর ও সাতক্ষীরা কলারোয়া থানার দক্ষিন ভাদিয়ালী গ্রামের মৃত জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুল হান্নান গাজী। রোববার বিকেলে আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর মনিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের হেলারের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। পরে স্বজনরা লাশটি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের রঞ্জন মন্ডল হিসেবে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার ভাতিজা দেবাশীষ মন্ডল বাদী হয়ে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে রোবাবার মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সিআইডির তদন্তে ভিকটিমের মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর), বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে মিঠুন ধরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে রঞ্জন মন্ডল কাটাখালী বাজারে পল্লী চিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর মিঠুন ধরকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি পুলিশ জানতে পারে অপর আটক আব্দুল হান্নান গাজীর সহায়তায় মিঠুন ধার সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি যশোরের একটি দল কলারোয়া থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি এসআই দেলোয়ার হোসাইন জানান, শুক্রবার দুপুরে মিঠুন ধরের ফার্মেসিতে যান রঞ্জন মন্ডল। মিঠুন ফার্মেসির সাটার বন্দ করে চলে যান। কিন্তু রঞ্জনকে ফার্মেসি থেকে আর বের হতে দেখা যায়নি। দুপুর আড়াইটার দিকে মিঠুন ফার্মেসি খুলে একটি ভরা বস্তা মোটরসাইকেলে পিছনে বেধে নিয়ে চলে যায়। এ বস্তায় ছিল রঞ্জন মন্ডলের মরদেহ। বস্তাটি মিঠুন প্রথমে গ্রামের একটি সরু রাস্তার পাশে রেখে দেয়। রাতে বস্তার মুখে ইট বেধে নদীতে ফেলে দেয়।
তিনি জানিয়েছেন, আটক মিঠুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং লাশ বহনে ব্যবহৃত মিঠুনের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাটাখালী বাজারে মিঠুন ধরের দোকান থেকে ভিকটিমকে দেওয়া ইনজেকশনের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে। আব্দুল হান্নান গাজী রঞ্জন ধরের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দ্যেশে মিঠুন তাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।