Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৮ নভেম্বর,২০২৬, ০২:১৪ পিএম
৬ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

মোটর দূর্ঘটনা (প্রতীকী ছবি) ছবি: সংগৃহীত

গত ৬ বছর ১০ মাসে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অন্তত ৩০০টি পরিবার। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনের নিজস্ব সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারে স্বজন হারানোর এই বেদনা কেবল একক মৃত্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একসঙ্গে পুরো পরিবার বা একাধিক সদস্যের প্রাণহানির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দীর্ঘ সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী কিংবা স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টিতে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। পাশাপাশি বাবা ও সন্তান একসঙ্গে নিহতের ১৫৯টি ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩১৮ জনের।

বিশেষ করে থ্রি-হুইলার ও হালকা যানবাহনে স্বজন হারানোর চিত্র সবচেয়ে মর্মান্তিক। অটোরিকশার যাত্রী হিসেবে একই পরিবারের দুজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ২১১টি। এ ছাড়া তিনজন নিহতের ১১৮টি, চারজনের ক্ষেত্রে ৯২টি, পাঁচজনের ৫৩টি, ছয়জনের ৩৮টি এবং সাতজন নিহতের ১৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৫২৫টি বড় দুর্ঘটনায় শুধু অটোরিকশাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন মানুষ।

অন্যদিকে, মাইক্রোবাসে ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯টি এবং পাঁচজন নিহতের ২৮টি ঘটনা। এমনকি বড় পরিসরে ১১ জন নিহতের ৪টি এবং ১৪ জন নিহতের ১টি মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। মোট ১৮৬টি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন।

প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ধরনের করুণ চিত্র। প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহতের ৩৪টি, তিনজন নিহতের ৩১টি, চারজন ২৪টি এবং পাঁচজন নিহতের ১৯টিসহ মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী হিসেবে ১১টি পরিবারে দুজন, ১৫টি পরিবারে তিনজন এবং ৮ জন নিহতের ৩টিসহ ৪৫টি দুর্ঘটনায় মোট ১৬২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বাসের যাত্রীদের ক্ষেত্রেও পরিবার হারানোর বড় রেকর্ড রয়েছে। বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহতের ১৭টি, তিনজন নিহতের ৯টি এবং চারজন নিহতের ৬টিসহ মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৮৫ জন। এর বাইরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যান উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহতের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মোটরভেহিক্যাল, থ্রি-হুইলার এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে দেশের সড়কগুলোতে যেভাবে একের পর এক গোটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তা কেবল সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর ও নীরব সংকট।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)