বিশেষ প্রতিবেদক
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল কিন্তু সার্বভৌমত্ব লাভ করতে পারেনি। ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার মিলিত শক্তি সেদিন যেমন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেছিল, তেমনি দেশের সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিল। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তিই ৭ই নভেম্বরের পরাজিত শক্তি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ঠিক সে সময়ে জনতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিন্তা যখন এক বিন্দুতে মিলেছে, তখনই শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট এবং তার পরবর্তীতে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান নিয়ে প্রেক্ষাপট, ষড়যন্ত্রকারীদের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এরপর সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কথা বলে কীভাবে সেই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সেনা অফিসার উঁচু চেয়ার দখলে নিতে চেয়েছিলেন, কারা সে সময় তাঁদের মদদ দিয়েছিল সে অবস্থা বর্ণনা করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দী এবং সিপাহী-জনতার মিলিত প্রচেষ্টায় ৭ নভেম্বরে সে বন্দীদশা থেকে জিয়াউর রহমানের মুক্তির মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশ বিদেশী শক্তির হাত থেকে আর একবার সার্বভৌমত্ব ফিরে পেল, সে ইতিহাস ও তার থেকে শিক্ষার দিকগুলি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫-এর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান একটি শিক্ষা দেয়—দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জনতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর অলিখিত অপ্রকাশ্য যে দেয়াল, অনেক সময় সে দেয়াল ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে জনতা এবং সশস্ত্র বাহিনী সব সময় সঠিক সিদ্ধান্তটাই গ্রহণ করেছে।
সশস্ত্র বাহিনীর চেইন অব কমান্ডের কথা আমরা যতই বলি, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যক্তিও যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস না করেন, বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ না করতে পারেন, তাহলে তাঁর কমান্ড অধস্তন কর্মকর্তারা অনুসরণ করেন না।
আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ৭ই নভেম্বর ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সকলকে এক হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের আলোচকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমালোচনা সহ্য করার শিক্ষা-দীক্ষা আছে বলেই মাত্র এক সপ্তাহ আগে যারা সরকারের পতন দাবি করেছেন, তাদেরকে সম্মানের সঙ্গে একই মঞ্চে বসিয়ে ৭ই নভেম্বরের আলোচনা করছি।
জনগণ দীর্ঘ দেড় যুগ পরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিখুঁত নির্বাচনে তাদের যে প্রতিনিধি বেছে নিয়েছে, তারা সেই প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে পরিচালিত হতে দেখতে চায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মানে এই ম্যান্ডেট আজীবনের জন্য নয়, মাত্র ৫ বছরের জন্য। তার মধ্যে ৮ মাস অতিবাহিত হয়েছে। আমরা যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হই, অবশ্যই আমাদেরকে আবারো পরীক্ষার খাতায় বসতে হবে সাড়ে ৪ বছর পর। সেদিন আবারো জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে আজ যারা রাজপথে আন্দোলন করছে হয়তো তাদের মধ্যে কাউকে জনগণ বেছে নেবে। আর আমরা যদি জনপ্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হই, নিশ্চয়ই জনগণ আমাদের কাজ বিবেচনা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে মনোনীত করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা জামায়াতের শিক্ষা সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নুরুজ্জামান।
এ সময় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সুধী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।