ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করার পর মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের ইনিংসকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
জোমেল ওয়ারিক্যানকে চার মেরে মুশফিকের রেকর্ড ভাঙেন হৃদয়। শুরুতে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটার পরে দেড়শ পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।
হৃদয় ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। রেকর্ড গড়ার পথে তার ব্যাট থেকে আসে ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ৫৬ বল এবং তাসকিন আহমেদ ২০টির বেশি বল খেলে তাকে সঙ্গ দেন।
চাপের মুখে দাঁড়িয়ে এই রেকর্ড গড়েন হৃদয়। আগের দিন তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ আজ প্রথম সেশনেই আরও চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ১৭১ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়।
এর আগে মুশফিকুর রহিম ৩৪ রান করে আউট হওয়ার আগে হৃদয়ের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন। লিটন দাস দ্রুতই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। মেহেদী হাসান মিরাজ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছালেও ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজের বলে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হন হাসান মাহমুদ। এরপর তাইজুল ইসলাম আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০১ রান।
একটা সময় ছিল, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাছে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ছিল প্রায় স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্নের তালিকায় এখন যোগ হলো আরেকটি নাম। তবে হৃদয়ের ইনিংসের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ডে আটকে থাকবে না। পরের প্রজন্মের জন্য তিনি একটা মানদণ্ডও রেখে গেলেন।
বিপর্যয় থেকে কীভাবে দলকে টেনে তুলতে হয়, কীভাবে শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়েও লড়াই চালিয়ে যেতে হয়, কীভাবে নিজের মাইলফলকের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বড় করে দেখতে হয়, তার একটা পাঠ দিয়ে গেলেন হৃদয়।
এখন প্রশ্ন একটাই। সতীর্থরা কি পারবেন এই ইনিংসের রং আরও গাঢ় করতে? হৃদয় তাঁর কাজটা করেছেন। ২২ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে টেনে এনে দিয়েছেন লিড। এখন তাঁর সতীর্থদের দায়িত্ব, এই মহাকাব্যের শেষটা যেন জয় দিয়ে লেখা হয়।
কারণ, কিছু ইনিংস শুধু স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না। সেগুলো ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের বুকেও সাহস হয়ে থেকে যায়।