Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার সহায়তা

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর,২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ এ ঋণ অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, লেখা এবং গণিতে বুনিয়াদি দক্ষতা শক্ত করা। একইসঙ্গে এটি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার প্রায় শতভাগ হলেও শিক্ষার মান উন্নত করা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ১০ বছর বয়সী প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু বয়সোপযোগী সহজ পাঠ্যবই পড়ে তা অর্থসহ বুঝতে ব্যর্থ হয়। তুলনামূলকভাবে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ মালয়েশিয়ায় এই হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। বিগত দুই দশকে দেশের প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়মুখী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করেছে। নতুন এই অর্থায়নের ফলে শিশুরা আরও ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাবে, বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতের ভালো কর্মসংস্থানের মজবুত ভিত্তি তৈরি হবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, এনজিও পরিচালিত স্কুল ও মাদ্রাসাসহ দুই কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা ও গণিত দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষাপ্যাকেজ চালু করা হবে। এতে আধুনিক পাঠদান উপকরণ, সুনির্দিষ্ট পাঠপরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক পরিচালনা ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করা হবে।

কর্মসূচিটির দলনেতা ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাশমিনা রহমান জানান, উন্নত কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রথম ধাপ হলো শক্তিশালী শিক্ষাবুনিয়াদ গড়ে তোলা। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয় নেতৃত্বের মানোন্নয়ন, বাজেটের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার এবং তথ্য-উপাত্তের কার্যকর প্রয়োগের ওপরও জোর দেওয়া হবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়া ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। একইসঙ্গে প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত করার মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে। বিশ্বব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে যে, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ বিভিন্ন খাতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)-এর মাধ্যমে এই সহজ শর্তের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ২৫ বছর মেয়াদী এই ঋণের প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে ছাড়ের সময়সীমা হিসেবে ধরা হয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)