Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন হয়রানির ঘটনায় শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ অক্টোবর,২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন হয়রানির ঘটনায় শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে ছয় বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও চুমু দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মুসলেম আহমদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২ এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

​আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুনানির আগে বিচারক ভুক্তভোগী শিশুর দেওয়া বিচারিক জবানবন্দি পর্যবেক্ষণ করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী শরিফুল আলম দাবি করেন, আসামির বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং বর্তমান মামলায় আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও তথ্য-প্রমাণহীন; এই যুক্তিতে তাঁরা জামিন প্রার্থনা করেন।

​এর তীব্র বিরোধিতা করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মহিউদ্দিন আদালতে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সমাজে এর একটি নেতিবাচক বার্তা যাবে। উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শুনে বিচারক আসামির জামিন আবেদন খারিজ করেন।

টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার’ ভেতরে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উপাধ্যক্ষ মুসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

​তবে এর পরপরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

এই পাল্টা মামলাকে কেন্দ্র করে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে, শিশুটির বাবাকে গ্রেফতারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা বিভ্রান্তি ও সমালোচনা তৈরি হয়।

​বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো অভিযান চলছে না এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই তথ্যটি পুরোপুরি সঠিক নয়।

​জিএমপি ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, "আইনের দৃষ্টিতে মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত নিশ্চিত করা।"

​শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রমাণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি যোগ করেন, "মামলায় পর্যাপ্ত প্রমাণ অবশ্যই রয়েছে, যা আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের স্বার্থে এখনই উন্মুক্ত করার বিষয় নয়।"

​বর্তমানে দুটি মামলাই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। একইসঙ্গে তদন্তের এই পর্যায়ে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জিএমপি কর্তৃপক্ষ।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)