সাইফুল ইসলাম
যশোরের উদ্যোমের উদ্যোগে শুরু হয়েছে খেজুরের চারা রোপন কার্যক্রম। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় দিন দিন দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে। শুধু গত পাঁচ বছরেই এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুর গাছ কাটা পড়েছে। একই সময়ে রস আহরণকারী পেশাদার গাছি কমে গেছেন প্রায় দেড় হাজার। গাছ ও গাছির সংখ্যা এভাবে আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় জেলায় বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় যশোরের এই শতবর্ষের চেনা ঐতিহ্য পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।
ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে জেলাজুড়ে ২০ লক্ষ খেজুরের বীজ বপনের একটি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’।
স্থানীয় বাজার ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ কেটে ফেলা এবং নতুন করে গাছ না লাগানোর কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। রস উৎপাদন কমে যাওয়ায় শীতকালীন গ্রামীণ অর্থনীতি ও গুড় ব্যবসার ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সংগঠনটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, "যশোরের খেজুর গাছ শুধু কোনো গাছ নয়, এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও অর্থনীতির অংশ। গত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ গাছ ও গাছি কমেছে, তাতে রস ও গুড় এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমরা ব্যাপকভাবে বীজ বপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৮ জুন) যশোর সদর উপজেলার কনেজপুর ও নিমতলা এলাকার সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার দুপাশে খেজুরের বীজ রোপণের মাধ্যমে দুই সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় ‘উদ্যাম’ এই কাজ করছে।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী।
আয়োজকেরা জানান, আগামী দুই সপ্তাহ ধরে পুরো যশোর জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি এবং সড়কের দুপাশে এই ২০ লক্ষ খেজুরের বীজ বপন করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য।
পরিবেশবিদ ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এই ২০ লক্ষ বীজ থেকে আগামী কয়েক বছরে যে চারা তৈরি হবে, তা জেলার রস ও গুড়ের উৎপাদনকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তবে বীজ বপনের পাশাপাশি চারাগুলো যাতে বড় হতে পারে, সেজন্য স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।