এম জামান
যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ (টাউন হল) ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা আয়োজিত 'সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল-২০২৬'-এ প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও লেখক মুফতি আলী হাসান উসামা ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও লেখক মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুধু মুসলমানদের জন্য নন, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও আল্লাহভীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যেই মানবজাতির প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ (টাউন হল) ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখা আয়োজিত 'সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল-২০২৬'-এ প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, মহানবী (সা.) অন্ধকারাচ্ছন্ন আরব সমাজকে ঈমান, তাকওয়া, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় আলোকিত করেছিলেন। তিনি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন, জুলুম-অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান সংকটময় সময়ে সীরাতুন্নবী (সা.) অধ্যয়ন এবং তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়। সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য কেবল রাসূল (সা.)-এর প্রশংসা করা নয়; বরং তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। পরিবারে উত্তম আচরণ, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, দরিদ্রের প্রতি দায়িত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন কি না, বিদ্যুৎ ও সেচের ব্যবস্থা স্বাভাবিক আছে কি না—এসব বিষয় সরাসরি মানুষের জীবন ও কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার, কৃষকের স্বার্থ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। এ সময় জনগণের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সকলকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাহফিলের সভাপতি ও যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেন, মহানবী (সা.)-এর সীরাত আমাদের জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। তাঁর আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে। নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, অপরাধ ও পারিবারিক অশান্তি থেকে উত্তরণের জন্য শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্রের আলোয় গড়ে তুলতে হবে।
দলীয় কর্মসূচি প্রসঙ্গে অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি বলেন, ১০ অক্টোবর কেন্দ্র ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে যশোরসহ খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখী এ লংমার্চে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলায় না গিয়ে জনগণের ন্যায্য দাবি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোক্তার আলী এমপি, যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, সহকারী সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, মাওলানা রেজাউল করিম, ভিপি আব্দুল কাদের, আবুল হাশেম রেজা, অফিস সেক্রেটারি নূর আল মামুন ও সাবেক নায়েবে আমীর আব্দুল আজিজসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক শামসুজ্জামান।