Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আন্দোলন ঠেকাতে জনজীবন স্তব্ধ করা : ভারতের সুপ্রিম কোর্টে স্বরাষ্ট্রসচিবের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর,২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
আন্দোলন ঠেকাতে জনজীবন স্তব্ধ করা : ভারতের সুপ্রিম কোর্টে স্বরাষ্ট্রসচিবের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন রুখতে দিল্লি অবরুদ্ধ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি বলেছেন, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়নি। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও অশান্তি এড়াতে যাবতীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

কোনো আন্দোলন ঠেকাতে জনজীবন স্তব্ধ করা যায় না বলে সুপ্রিম কোর্ট ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ–প্রশাসনকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরের দিন দেখা যায়, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২৪০টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। এর ফলে রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন ১০ অক্টোবর পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার, মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশের জবাবে হলফনামা পেশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

নোটিশের জবাবে গোবিন্দ মোহন জানান, ১০ অক্টোবর প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সিজেপি বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করে। ২০ জুলাই এদের ডাকেই দেশের যুব সম্প্রদায় পার্লামেন্ট চলো অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আন্দোলন সহিংসতা ছড়িয়েছিল। অনেকে আহত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ১০ অক্টোবর পুলিশ কড়াকড়ি করে। তবে তিনি জানান, ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত রাইসিনা হিলসের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে শুধু সেলুলার ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওয়াইফাই ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু ছিল।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারও সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করেন। তাতে বলা হয়, গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্য বিবেচনা করে এবং পরিস্থিতি বিচার করে দিল্লি পুলিশ সাবধানতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ কমিশনার বলেন, দিল্লি দেশের রাজধানী। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে যে সংগঠনের ডাকে আগে অশান্তি হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। অনেকে আহত হয়েছেন। ২০ জুলাইয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে পুলিশ। তাই ১০ অক্টোবর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। পুলিশি হলফনামায় বলা হয়, ১০ অক্টোবর আটক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। চা, কফি, খাবার দেওয়া হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা পর সবাইকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। আটক করা রাজনীতিবিদদের সম্মানহানি হয়, এমন কিছু করা হয়নি।

বিরোধী দলের অভিযোগ অবশ্য ভিন্ন। যুব, ছাত্রদের অভিজ্ঞতাও পুলিশি দাবির সঙ্গে মানানসই নয়। বরং পুলিশি অত্যাচারের বহু অভিযোগ তাঁরা করেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত বুধবার অত্যাচারিত তরুণ–তরুণীদের সংবাদ সম্মেলনে হাজিরও করেছিলেন। পুলিশি অত্যাচারের অনেক ভিডিও–ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষও হলফনামা জমা দেয়। তারা বলেছে, ১০ অক্টোবর মাত্র ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল সব দিক বিবেচনা করে। পুলিশের কথা শুনেই ওই ব্যবস্থা নিতে হয়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, দিল্লি মেট্রোর তিন শতাধিক স্টেশনের মধ্যে ওই ৪৫ স্টেশন বন্ধ রাখা হলেও মেট্রো পরিষেবা চালু ছিল।

ওই আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের একাংশ মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির এজলাসে তারও শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত পুলিশকে সব ভিডিও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে তাঁর নির্দেশ, যে সাংবাদিকেরা পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো দমনমূলক ববস্থা যেন না নেওয়া হয়।

সলিসিটর জেনারেল এই মামলার শুনানির সময় এজলাসে বলেন, কে স্বাধীন সাংবাদিক আর কে রিল তৈরি করছেন, তা আজকাল বোঝা খুবই কঠিন। বহু লোক রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। হাতে মাইক ও ক্যামেরা নিয়ে তাঁরা ঘটনা রেকর্ড করেন। তিনি বলেন, আজকাল কে যে সত্যি সাংবাদিক আর কে রিল তৈরি করছেন, বোঝা দায়।

যন্তর মন্তরে আর কখনো বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখানো যাবে না বলে দিল্লি পুলিশ যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়েও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চান, দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখানোর বিকল্প স্থান বিবেচনা করার বিষয়ে ৯ অক্টোবর যে মন্তব্য করা হয়েছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে কি না।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির এজলাসকে জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কমিটির সুপারিশ মেনেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মামলার আবেদনকারীর আইনজীবী মুক্তা গুপ্তা বলেন, প্রতিবাদের জায়গা সব সময় এমন হয়, যাতে তা সরকারের কানে পৌঁছায়। শাসকের দৃষ্টিগোচর হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, যন্তর মন্তর নিয়ে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা কতটা যুক্তিযুক্ত, আদালত তা দেখবে।

রাহুল, অখিলেশকে নোটিশ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মামলা করেছেন বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর অভিযোগ, এভাবে রাজনীতির স্বার্থে বিচার বিভাগকে নিশানা করা সমর্থনযোগ্য নয়। যা করা হয়েছে, তা উচিত কাজ হয়নি।

বিজেপি নেতার ওই মামলা সম্পর্কে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘বিচার বিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারেন না। বিরোধী নেতাদের কারও নাম না করে সূর্যকান্ত বলেন, এভাবে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করা যায় না। আমরা কেউ গজদন্তমিনারে বসে নেই। কোথায় কী হচ্ছে, আমরা সব জানি। ওই মামলায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে।’

নির্বাচনে বিজেপিকে জেতাতে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও এসআইআরকে ব্যবহার করে বিজেপির রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ইন্ডিয়া জোট কোমর কষেছে। জেটোর নেতারা এ জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। একই আরজি জানাতে তাঁরা প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তরও সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় বিরোধী নেতারা মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে যান ও এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

রাহুলদের করা ওই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার ইসি সদস্য জ্ঞানেশ কুমার, সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)