আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার পর সেনাসদস্য ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ঘটনার সময় ওপরের তলার শ্রেণিকক্ষে ৩০ জন, মাঝের তলায় ৪০ জন এবং নিচতলায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে ৩৪ শিশু ও ১ জন নারী শিক্ষক রয়েছেন। নিহত শিশুদের অধিকাংশের বয়স ১৩ বছরের কম।
আজ বৃহস্পতিবার শহরের দির কলোনি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুলটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান, ভবনের তিনতলার একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদ দোতলার ছাদের ওপর ধসে পড়ে, এরপর সেই ভার নিতে না পেরে একতলার ছাদও ধসে পড়ে। এতে প্রতি তলাতেই একটি করে শ্রেণিকক্ষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিক্ষার্থীরা। তবে আটকে পড়া সবাইকে বের করা গেছে বলে পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন। ঘটনার সময় ওপরের তলার শ্রেণিকক্ষে ৩০ জন, মাঝের তলায় ৪০ জন এবং নিচতলায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করছেন।
জিও টিভির খবরে বলা হয়, পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে চারজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ১ শিক্ষিকাসহ ৩৩ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় আনা হয়েছে ২০ শিশুকে। আরও দুজনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে নাসিরুল্লাহ খান বাবর মেমোরিয়াল হাসপাতালে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান মিয়ান সাঈদ স্কুল ভবনটি সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, সরু একটি গলিতে অবস্থিত তিনতলা ভবনটির ছাদের স্ল্যাবগুলো নিম্নমানের ছিল। ভবনটির তিনটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শের আহমেদ এ দুর্ঘটনার জন্য স্কুল ভবন তৈরিতে ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীকে’ দায়ী করেন। তিনি এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি। এ ঘটনায় যাঁদের দায় পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।’
এসএসপি (সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ) অপারেশনস বলেন, ভবনের ছাদ নির্মাণে টি-আকৃতির লোহার বিম ও কাঠের তক্তা ব্যবহার করা হয়েছিল। ভবনটির কাঠামো অতিরিক্ত ভার নিতে না পেরে ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুরা আটকা পড়ে।
পুলিশের এক তদন্ত কর্মকর্তা স্কুল ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগে স্কুলমালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
শোক ও সমবেদনা
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আহত ব্যক্তিদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাস্থলে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদারের নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন। আহত শিশুদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও শোক জানিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় প্রাদেশিক শিক্ষাসচিব ইনায়েতুল্লাহ ওয়াসিম আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিতে বেসরকারি স্কুল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন।