আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার নাজুক পরিবেশ, শিক্ষকসংকট ও অবকাঠামোগত নানা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের চলমান ক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে টানা সংঘর্ষের জেরে সোমবার দেশটির চারশ থেকে পাঁচশ উচ্চবিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার।
শ্রেণিকক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের দ্রত সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সের প্যারিস, মন্টপেলিয়ার, নান্তেস ও মার্সেইসহ প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এসেছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সহিংসতাও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি বিচার বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩,৭০০ স্কুলের মধ্যে অন্তত ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে এই সহিংস আন্দোলনের আঁচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। সহিংসতায় শিক্ষক ও কর্মচারীসহ শিক্ষা খাতের প্রায় ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সোমবার একযোগে ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলে পাঠদান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের ফায়দা তুলে কিছু উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী এতে ঢুকে সংঘাত উসকে দিচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সহিংস আন্দোলন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকেই ১,৭৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আশ্বাসের বাণী দিলেও তা মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্সে শিক্ষা সংস্কার, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু। একই সঙ্গে আন্দোলনে ক্ষতিপূরণ আদায়ে একটি কঠোর বিল পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, স্কুল ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ব্যয় দায়ীদের কাছ থেকেই উসুল করা হবে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতিকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের আয়োজকরা মঙ্গলবারেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ডাক দিয়েছেন।