আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত
ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক অবকাঠামো ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান উসকানিমূলক পরিস্থিতিকে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না বলে একটি ‘সাধারণ সামরিক সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ওয়াশিংটন সরাসরি টানা যুদ্ধ না চালিয়ে বিরতি দিয়ে দিয়ে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট হামলা পরিচালনা করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নৌ চলাচলের পথ নিরাপদ করতে ইতোমধ্যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, সামরিক যুদ্ধবিমান ও মাইন অপসারণকারী জলযানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক বোমার মালিক হওয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা, যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে বড় ধরনের পারমাণবিক হুমকি থেকে মুক্ত। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, মার্কিন অভিযানের মুখে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা পুনরায় পুনর্গঠন করতে তেহরানের অন্তত ২৫ বছর সময় লেগে যাবে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরদারিতে থাকা নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতটি অত্যন্ত কৌশলগত এক স্থান। শত শত মিটার পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সে ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কাজ চলে বলে ধারণা করা হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে কারা যাতায়াত করছে তার সম্পূর্ণ তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে সরাসরি আঘাত হানা হতে পারে।