আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতে ছাত্র বিক্ষোভে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অ্যামনেস্টির ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মোদি সরকারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানো তরুণদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও দেশীয় নির্দেশিকা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার (২৪ আগস্ট) সংস্থাটির প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দমাতে ভারতীয় পুলিশ প্যালেট শটগান, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি এবং ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহার করেছে।
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পাবলিক পরীক্ষায় নানা অনিয়মের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন তরুণ ও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন। প্রাথমিক পর্যায়ে আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ২০ জুলাই হাজার হাজার শিক্ষার্থী পার্লামেন্ট অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধার মুখে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, দিল্লি ও বিহারে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য যাচাই করে তারা ইলেকট্রিক শক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে। বিশেষ করে বিহারের সিওয়ান জেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের দুটি ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটলেও পুলিশের দেওয়া প্রতিক্রিয়া ছিল মূলত 'রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার' সমতুল্য।
অন্যদিকে পুলিশের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া জবাবে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আড়ালে থাকা একদল সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতকারী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে তারা বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।
এই আন্দোলনের মুখে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিক্ষোভের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে ইতোমধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তবে বিতর্ক থামেনি; সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্যালেটের আঘাতে আহত এক তরুণ বিক্ষোভকারীকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লির একটি থানার সামনে অবস্থান ধর্মঘট করেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মামলা দায়ের করেন। উদ্ভূত সহিংসতা ও উভয় পক্ষের অভিযোগ পর্যালোচনায় ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন তদন্ত প্যানেল গঠন করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।