আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইরান রোববার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (২০০ বিলিয়ন ঘনমিটার) বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুদের সন্ধান পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কয়েক মাস পর এই তথ্য জানানো হলো।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ বলেন, 'ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান মিলেছে।'
তিনি আরও বলেন, এই গ্যাসক্ষেত্রের প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। তার হিসাব অনুযায়ী, এ খনি টানা ১৫ বছর উৎপাদনে থাকতে পারে এবং এখান থেকে প্রতিদিন ২৮০ মিলিয়ন ঘনমিটারেরও (প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট) বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস মিলবে—যদিও তা দেশটির দৈনিক চাহিদার তুলনায় সামান্য অংশ।
পাকনেজাদ জানান, এটি উচ্চমানের সুইট ন্যাচারাল গ্যাস। এই গ্যাসে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় এর উন্নয়ন ও উত্তোলন খরচ অনেকটাই কম হবে।
পাকনেজাদ আরও বলেন, নতুন এই গ্যাসক্ষেত্রে 'দশ বিলিয়ন ডলার' মূল্যের গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে। ইরান এই সম্পদ 'যত দ্রুত সম্ভব' উত্তোলনের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি।
তবে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে নতুন উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর লাগতে পারে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেহরানের জ্বালানি খাত ধাক্কা খায়।
ইরানের গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা ও তেলের ডিপোর মতো জ্বালানি অবকাঠামো এবং জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর ওপর একের পর এক হামলা চালিয়েছে দুই দেশ।
জুলাইয়ে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে চলা হামলায় দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনমিটার কমার পর, 'আগামী কয়েক মাসের মধ্যে' দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আশা করছে ইরান।
একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান, অন্যদিকে তাদের ওপর ঝুলছে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া। এতে অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর 'ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা' চাপানোর হুমকি দিয়েছেন।