আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পর আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গতকাল বুধবার টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তারা ইরানের ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, এ হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই তীব্র বোমাবর্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া।
পাঁচ প্রদেশে বোমাবর্ষণ, বুশেহরে আতঙ্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর জানান, যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্র ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত (শহীদ) এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় তেহরানের সঙ্গে যুক্ত রেলপথের দুটি সেতু এবং ইরান-তেহরান রেল করিডরের রেলপথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বুশেহরে অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে আইআরজিসির (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি স্থাপনায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও ট্রুথ সোশ্যালে হুমকি
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানি হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা শুরু করে। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও পোস্ট করেন এবং ইরানকে আবারও হুমকি দেন।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন:
"এটি গতকাল (মঙ্গলবার) জাহাজে ইরানের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ। যদি এটি আবার ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হবে!"
অবশ্য এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এই হামলা কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে যাবে না, বরং এটি হবে ‘খুবই দ্রুতগতির’ একটি অভিযান।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাব, ৩ দেশে সাইরেন
মার্কিন হামলার জবাবে চুপ থাকেনি ইরানও। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। হামলার সতর্কতায় বাহরাইনে অন্তত তিনবার সাইরেন বেজে ওঠে।
এর পাশাপাশি কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এদিকে আঞ্চলিক সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে জর্ডান।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে গত ১৭ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি ভেঙে আজ বৃহস্পতিবারের এই পাল্টাপাল্টি হামলা দুই দেশের সংঘাতকে আবার চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিল।