আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ জানাজায় লাখো মানুষের সমাগম ছবি: ধ্রুব নিউজ
উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদের পবিত্র মাজার শরীফে দাফন করা হয়েছে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের মধ্য দিয়ে টানা ছয়দিন ধরে চলা শোক অনুষ্ঠান শেষ হচ্ছে।
এরআগে জাতীয় সম্প্রচার সংস্থার (আইআরআইবি) বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানায়, শহীদ নেতার জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া কমিটির সেক্রেটারি আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেছেন: "ইরাকের জনগণ নাজাফ আশরাফ এবং কারবালা-এ-মোয়াল্লায় শহীদ নেতার জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক গণজাগরণের সৃষ্টি করেছে। ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে, এই বিশাল জনসমাগমের কারণে সৃষ্ট ভিড়ে আমাদের জাতীয় কমিটির বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠানের মূল সূচিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।"
পুরজামশিদিয়ান আরও যোগ করেন: "মাশহাদ পবিত্র নগরীর জানাজা কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও কষ্ট লাঘব করতে আমরা একটি নতুন সময় নির্ধারণ করেছি। যেহেতু শহীদ নেতার পবিত্র কফিন এবং তাঁর সম্মানিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাশহাদ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে, তাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা বা ৮টায় যে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ২টায় শুরু হবে।"
এদিকে, রাজাভি খোরাসান প্রদেশের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া কমিটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই জানাজা ও দাফন অংশ নিতে ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে ৪,৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি অতিথি ও প্রতিনিধি পবিত্র মাশহাদ নগরীতে এসে পৌঁছেছেন।
অনেককে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে দেখা গেছে। আবার কিছু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ডও বহন করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারিতে আলী খামেনি নিহত হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।
রাজধানী শহর তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট বলে জানা যায়।
মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরাক থেকে মরদেহ মাশহাদে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে। এ কারণে, দাফনের আগের জানাজা ও শোকমিছিল সকাল ৮টায় শুরুর কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দুপুর ২টায় নেওয়া হয়েছে। শহীদ নেতাকে দাফন করা হবে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে।
এর আগে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারে নেওয়া হলে সেখানে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের সমাগম হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম দিনে আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েক সদস্য নিহত হন। মাঝে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে ফের সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দুই দিনে পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৮ জন।