Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইসরায়েলকেও ভয় পায় না কে এই ভারতীয় বিচারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ জুন,২০২৬, ০২:০২ পিএম
ইসরায়েলকেও ভয় পায় না কে এই ভারতীয় বিচারক

বিচারপতি এস মুরালিধর ছবি: সংগৃহীত

মোদি সরকার চাকরিচ্যুত করলেও থেমে যাননি বিচারক মুরালিধর, এবার ইসরায়েলি বাহিনীর শিশুহত্যার চিত্র তুলে ধরলেন প্রকাশ্যে

এক গভীর রাতের সরকারি আদেশে হঠাৎ করেই থমকে গিয়েছিল তার ক্যারিয়ার। সেই ঘটনার ছয় বছর পর, বিচারপতি এস মুরালিধর আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছেন। যে আপসহীন আইনি দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে ভার‍তের নয়াদিল্লির বিচারকের আসন হারাতে হয়েছিল, ঠিক সেই একই দৃঢ়তা নিয়ে তিনি এবার ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে এই অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বিচারক সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট ফিলিস্তিনি প্রাণহানির প্রায় ৩০ শতাংশ। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং তাদের পদ্ধতিগত কর্মকাণ্ড মূলত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণের একটি ভয়ংকর ধরন তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শিশুদের ওপর স্নাইপার ও ড্রোন দিয়ে নিখুঁত হামলা এবং অবরোধের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ব্যাপক খাদ্য সংকট তৈরি করা।

মুরালিধরের প্যানেল উল্লেখ করেছে যে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে নবজাতক ও মাতৃসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সরাসরি ধ্বংস করা।

এ ছাড়া পশ্চিম তীরে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা এবং বেআইনি আটকের ঘটনাও নথিবদ্ধ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনটিকে 'জঘন্য প্রোপাগান্ডা' এবং 'মিথ্যা অপবাদ' বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কমিশন তাদের অবস্থানে অনড়। তারা জানিয়েছে, প্রমাণগুলো স্পষ্টভাবেই ফিলিস্তিনি সমাজকে শেকড় থেকে উপড়ে ফেলার ইসরায়েলি 'গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যকেই' নিশ্চিত করে।

কে এই বিচারপতি মুরালিধর?

ভারতীয় আইনি ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি বিশ্ব পরাশক্তির সামনে মুরালিধরের এই আপসহীন অবস্থান মোটেও নতুন কিছু নয়।

নরেন্দ্র মোদির শাসনে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্কে একরাতেই তিনি প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমানে মুরালিধরের অবস্থান যেন সেই সময়ের জোরালো প্রতিধ্বনি বহন করছে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যখন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল, তখন দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুরালিধর তার বাসভবনে গভীর রাতে এক অস্বাভাবিক শুনানির আয়োজন করেছিলেন। দাঙ্গায় আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। 

পরদিন তিনি ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যের (হেইট স্পিচ) দায়ে ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করায় দিল্লি পুলিশকে কড়া ভর্ৎসনা করেন। মুরালিধর সতর্ক করে বলেছিলেন, 'আমাদের চোখের সামনে এই শহরে আরেকটি ১৯৮৪ (শিখবিরোধী দাঙ্গা) ঘটতে দিতে পারি না।'

তার এই ভর্ৎসনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকার নজিরবিহীনভাবে গভীর রাতে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে দিল্লি থেকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলি করে দেয়। এই বদলির সময় নিয়ে ভারতজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দিল্লি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এর প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করে এবং একজন স্বাধীন বিচারকের বিরুদ্ধে এটি একটি 'শাস্তিমূলক পদক্ষেপ' বলে নিন্দা জানায়।

এরপর সরকারের এই অসন্তোষের ছায়া তার ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় ধরে ছিল। বড় কোনো বেঞ্চে তার পদোন্নতির অনুমোদন আটকে রাখা হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর আগেই তাকে উড়িষ্যা হাইকোর্ট থেকে অবসরে যেতে হয়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম বিচারপতি মুরালিধরকে মাদ্রাজ হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সরকার সেই সিদ্ধান্ত ছয় মাস ধরে আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের এপ্রিলে কলেজিয়াম তাদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়।

উড়িষ্যা হাইকোর্ট থেকে অবসর নেওয়ার সময় বিচারপতি মুরালিধরকে যে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, তা-ও ছিল নজিরবিহীন। তার প্রতি সম্মান জানাতে আইনজীবীরা আদালত থেকে রাস্তা পর্যন্ত সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

বর্তমানে জেনেভা থেকে কাজ করা এই প্রবীণ আইনজ্ঞ এখনো ক্ষমতাশালীদের চোখে চোখ রেখে 'অস্বস্তিকর সত্য' বলতে পিছপা হন না। জাতিসংঘের এই দায়িত্বটি কেবল 'গাজা রিপোর্ট' তৈরির কোনো একক কাজ নয়। ২০২১ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল এই চলমান তদন্ত কমিশনটি গঠন করেছিল। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়াই এই কমিশনের কাজ।

 

 

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)