রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের ভালো পিচ ঢালাই রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং করার এক অভিনব অভিযোগ উঠেছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-গান্না সড়কের ভালো পিচ ঢালাই রাস্তা খুঁড়ে ইটের সলিং করার এক অভিনব অভিযোগ উঠেছে। মাত্র সাড়ে ৮শ মিটার সড়কের এই কাজের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। ভালো ও সচল রাস্তা ধ্বংস করে ইটের সলিং করার এই প্রকল্পকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কটির কালীগঞ্জ নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে আলাইপুর গ্রাম পর্যন্ত অংশ ঘুরে দেখা গেছে, যে রাস্তা দিয়ে কিছুদিন আগেও অনায়াসে যানবাহন চলাচল করত, সেখানে এখন পিচ-পাথর উপড়ে ফেলে দুই স্তরের ইট বসিয়ে সলিং করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, রাস্তার দু-এক জায়গায় সামান্য ক্ষতি হয়েছিল, যা সামান্য মেরামত করলেই অনায়াসে চলত। কিন্তু তা না করে পুরো ভালো রাস্তাটি ভেঙে ফেলায় প্রতিদিন চলাচলকারী দূরপাল্লার যানবাহনসহ শত শত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল চালক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পুরো এলাকায় এখন ধুলাবালি আর খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তুহিন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার সিংহভাগই একদম ঠিকঠাক ছিল। সামান্য একটু মেরামত করলেই যেখানে কাজ হতো, সেখানে কোটি টাকার প্রজেক্ট দেখানোর জন্য পুরো ভালো রাস্তাটাই ভেঙে দেওয়া হলো। এটা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।” ইজিবাইক চালক আলিম হোসেন জানান, পাকা রাস্তা ভেঙে আবার ইটের রাস্তা করায় গাড়ি চালাতে ঝুঁকি ও কষ্ট—দুই-ই বাড়ছে।
এদিকে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গামা কনস্ট্রাকশন’-এর স্বত্বাধিকারী গোলাম হোসেন মেম্বার জানান, টেন্ডারের শিডিউল অনুযায়ীই কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “টেন্ডারে যেভাবে বলা আছে, আমরা ঠিক সেভাবেই কাজ করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।”
এই প্রকল্পের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী অপূর্ব বিশ্বাস জানান, বর্ষার পানিতে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাই এটি ‘রক্ষণাবেক্ষণমূলক’ কাজ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে ভালো অংশ কেন ভাঙা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজের নকশা অনুযায়ী কিছু ভালো অংশও এর মধ্যে পড়ে গেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।”