ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: ধ্রুব গ্রাফিক্স
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। অ্যাডহক কমিটির পর এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বোর্ডের দায়িত্ব নিলেন জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ওপেনার এবার মাঠের লড়াই শেষে বিসিবির ‘বস’ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন।
নিরঙ্কুশ সমর্থনে সভাপতি তামিম
নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ ৭৩টি ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন তামিম ইকবাল। এরপর নবনির্বাচিত পরিচালকদের প্রত্যক্ষ ভোটে একক প্রার্থী হিসেবে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম জানান, বোর্ডের সবার সম্মতিক্রমেই নীতিনির্ধারণী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের একমাত্র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের কাউন্সিলর ফাহিম সিনহা। তিনি ৬৬ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুজন সহসভাপতির পদ থাকলেও, আপাতত একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজনে পরবর্তীতে দ্বিতীয় জন যুক্ত হবেন।
আগামী চার বছরের জন্য বিসিবির নীতিনির্ধারণ করবেন ২৫ জন পরিচালক। এর মধ্যে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ১২ জন, জেলা ও বিভাগ থেকে ১০ জন, এবং ক্যাটাগরি-৩ (বিভিন্ন সংস্থা) থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি দুজনকে মনোনীত করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে যারা চমক দেখালেন:
বিভাগীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও কয়েকটি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে।
বরিশাল বিভাগ: ফরচুন বরিশালের ওনার মিজানুর রহমান ৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
খুলনা বিভাগ: এখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শফিকুল আলম ও শান্তনু ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিভাগ: জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং মঈন উদ্দিন চৌধুরী পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যান্য: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফয়সল আমীন (রংপুর), মীর শাকরুল আলম (রাজশাহী), আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট) এবং সাইদ বিন জামান ও আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ (ঢাকা) বিভাগ থেকে বোর্ডে এসেছেন।
ক্যাটাগরি-৩ থেকে অভিজ্ঞ সংগঠক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শেখ মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং সরফরাজ আহমেদ।
জাতীয় দলের নেতৃত্ব ছাড়ার বছরখানেকের মধ্যেই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ পদে তামিম ইকবালের আসীন হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পর বোর্ডের ডেস্কেও তামিম কতটা ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক’ হয়ে উঠতে পারেন।