বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
গত ৮ জুলাই যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি আবশ্যিক ২য় পত্রের এমসিকিউ অংশে ১৮ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। এ নিয়ে পরীক্ষা হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও পরে প্রশ্ন পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে ৩০ মিনিটের ৩০ নম্বরের এমসিকিউ অংশে ওই ১৮ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ভিন্ন সিলেবাসের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়।
প্রশ্ন বিতরণে এই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে যশোর উপশহর কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এবং ট্যাগ অফিসারকে প্রত্যাহার করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সোমবার এ সংক্রান্ত চিঠি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।
বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার কারণে ওই ১৮ জন শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে; কারণ তারা যে প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিল, সেই সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়া এই শিক্ষার্থীরা বাড়তি কোনো সুবিধা পাচ্ছে না এবং পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে তাদের সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও বোর্ডের কিছু করণীয় নেই বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
এদিকে বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা বিভাগের নজরে আসার পর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত রবিবার বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুকুল আজম মু. আব্দুস ছালাম, সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর ভিত্তিতেই ওই ৩ জনকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী আরও জানান, ওই ১৮ জনের প্রশ্ন পাল্টে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে তাদের পরীক্ষার ফলাফলের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। প্রচলিত নিয়মে ফল পরিবর্তন করে দেওয়ার বা ওই ১৮ জনের নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো বিধান নেই। অবশ্য এ বিষয়ে বোর্ড আবারও তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।