কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও এর সামনের সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
ভারী বর্ষণ আর কোমরসমান পানি মাড়িয়েই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে কুমিল্লার শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় কুমিল্লা নগরী। এর ফলে নগরীর অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও এর সামনের সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো পরীক্ষার্থী কোমরসমান পানি ভেঙে, আবার কেউ কেউ প্রশাসনের দেওয়া প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানে চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়।
আজ এই কেন্দ্রে ১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থীর পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বর্ষণে কলেজের পুরো আঙিনাসহ সামনের প্রধান সড়কগুলো হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে আছে। কলেজের কয়েকটি ভবনের নিচতলায়ও পানি ঢুকে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে সকাল সাড়ে আটটায় বের হয়েও কোনো যানবাহন পাননি শহরতলির দৌলতপুর থেকে আসা পদার্থবিজ্ঞানের পরীক্ষার্থী সাজিদ হোসেন। পরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে প্রশাসনের দেওয়া নৌকায় চড়ে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তিনি। হিসাববিজ্ঞানের আরেক পরীক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার জানান, বাবার মোটরসাইকেলে চড়ে বহু কষ্টে কেন্দ্রের সামনে এলেও পুরো এলাকা পানিতে ভাসতে দেখে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি।

এসএসসি পরীক্ষাচালাকালে ২৮ এপ্রিল কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রে বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়-- সংগৃহীত
পরীক্ষার্থীদের এই চরম দুর্ভোগের খবর পেয়ে দ্রুত কেন্দ্রে ছুটে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা (টিপু), ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন এবং কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কয়েকটি প্লাস্টিকের নৌকা ও ভ্যানের ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের মূল কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।
মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে এবার ভবনের নিচতলার কোনো কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সব শিক্ষার্থীকে দোতলা ও তার ওপরের তলাগুলোর কক্ষে বসানো হয়েছিল। ফলে পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হয়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন বলেন, এই কেন্দ্রটি নিচু এলাকায় হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কিছুটা বাড়তি সময় দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে গত ২৮ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষার সময়ও কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে ফোন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়ক সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করতে গিয়ে নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ‘কান্দি খাল’ সংকুচিত করার কারণেই এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত রাখতে আমরা দিনরাত কাজ করেছি। কিন্তু আজকের অস্বাভাবিক বর্ষণে প্রকৃতির কাছে আমরা হার মেনেছি। তবে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে এবং আমাদের কর্মীরা নালা-খাল পরিষ্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।’