নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (৮ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়ামের বাইরে বের হলে শহীদ মিনারের কাছে অতর্কিত হামলার শিকার হন।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা। এ সময় মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন— দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুজয় দাস এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাফিজসহ আরও কয়েকজন।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো সাংবাদিককে মারিনি।’
তবে দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কিবরিয়া আমাকে লাথি মারে এবং ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’