কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুর পাইকারি মাছ বাজারে দুই শ্রমিককে মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেচাকেনা বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য আড়ত মালিক সমিতি ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের কেশবপুর পাইকারি মাছ বাজারে দুই শ্রমিককে মারপিটের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বেচাকেনা বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য আড়ত মালিক সমিতি। আজ শনিবার সকাল থেকে বাজারের সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় এই মৎস্য আড়তে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন স্থবির হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের ২৩ মার্চ একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারে কর্মরত দুই শ্রমিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর থেকে বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মৎস্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বারবার বিচারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ থেকে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
এ বিষয়ে রূপালী মৎস্য আড়তের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল হান্নান জানান, "আমাদের শ্রমিকদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ২৩ তারিখের ওই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু আজ ২৮ মার্চ হয়ে গেলেও আমরা কোনো সুষ্ঠু বিচার বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই মালিক সমিতি বাজারের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে।"
শনিবার ভোরে মাছ নিয়ে আসা কয়েকশ ট্রাক ও ভ্যান বাজারের বাইরে আটকা পড়ে আছে। পচনশীল পণ্য হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারি বিক্রেতারা। অন্যদিকে মাছের সরবরাহ না থাকায় স্থানীয় খুচরা বাজারেও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বাজারে এসে মাছ কিনতে না পেরে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে পুলিশ। কেশবপুর থানার তদন্ত ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, "আমরা মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছি। আশা করছি দ্রুতই বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি দূর হবে।"
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে মালিক সমিতি তাদের দাবিতে অনড় থাকায় বেলা গড়িয়ে গেলেও বেচাকেনা শুরু হয়নি।