বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেন্জার টার্মিনালে যাত্রীদের ভীড় ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে একদিনেই ভ্রমণ ও বাণিজ্য খাতে সরকারের মোট ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য থেকে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সংগৃহীত হয়। বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন মঙ্গলবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫১২ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন এবং ৪২৩টি ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে ৩২১ ট্রাক পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ১০২ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়।
আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় ছিল শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশুখাদ্য, মেশিনারিজ, ট্রাক চ্যাসিস ও ফলমূল। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন, কেমিক্যাল, কাঁচা লোহা ও ওয়ালটন পণ্য। তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে পাটজাত দ্রব্য ও কাঠের আসবাবসহ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। একইভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতা আমদানিতেও কড়াকড়ি চলছে। বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে এসব নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাণিজ্যিক গতি ফেরাতে শীঘ্রই বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে।
পরিবহন ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সোমবার বেনাপোল থেকে পণ্য পরিবহনে ঢাকা অভিমুখে ট্রাকভাড়া ছিল ২১–২২ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রাম রুটে ২৬–২৭ হাজার টাকা। তবে পচনশীল পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। ভ্রমণ খাতের আয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১২ বছরের বেশি বয়সী সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ ও বন্দর কর বাবদ ১ হাজার ৬১ টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ৫ থেকে ১২ বছর বয়সীদের ফি ৫৬১ টাকা এবং ৫ বছরের কম বয়সী, মুক্তিযোদ্ধা ও ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর কমিয়ে মাত্র ৬১ টাকা বন্দর কর নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় অংশেও বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ৪০০ রুপি ভ্রমণ কর দিতে হচ্ছে।
মুদ্রাবাজারের তথ্যানুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকায় ৭৪ ভারতীয় রুপি এবং ১০০ রুপিতে ১৩৪ টাকা বিনিময় হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২৬ টাকা। এদিকে রেলপথে বাণিজ্যের বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, বর্তমানে কেবল এসিআই মোটরস ভারত থেকে ট্রাক্টর আমদানি করছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে সাধারণ পণ্য আমদানি ও ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুতই রেল যোগাযোগ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল হলে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।