Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির যতটুকু জেনেছে বিশ্ব

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন,২০২৬, ০১:৩১ এ এম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির যতটুকু জেনেছে বিশ্ব

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই জলপথ দিয়ে চলাচল ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ইরানের দুটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়ে বিনা খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও পরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। গতকাল উভয় দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এ দাবি করা হচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এই চুক্তির ফলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনা শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

চুক্তির  গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুদ্ধবিরতি। সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে, এমনকি লেবাননেও, সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় লেবাননের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, চুক্তির পক্ষে না থাকা ইসরাইল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে না।

চুক্তি অনুযায়ী, এদিকে নিরাপত্তাজনিত বিষয়ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছে এবং সেগুলো অপসারণের বিষয়ে আলাদা সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান আশ্বাস দিয়েছে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বা মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গীকার চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত অর্থের বিষয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ছাড় না করলে ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো অর্থ ছাড়া হবে না।

চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবুও যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এখনও প্রায় ১০ ডলার বেশি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চূড়ান্ত সমাধান এখনও অনেক দূরে।

সূত্র: সিএনএন

ধ্রুব/টিএম

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)