বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে দীর্ঘ তিন মাস পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আবারও শুল্কমুক্ত সুবিধায় সিদ্ধ চাল আমদানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ভারত থেকে চারটি পৃথক চালানে মোট ৫১০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। ১৪টি ট্রাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা এই চালগুলো বর্তমানে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত এই চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, খোলা বাজারে এই চাল কেজিপ্রতি ৫১ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। চাল আমদানির মূল লক্ষ্য হলো বাজারে চালের সরবরাহ বাড়িয়ে উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা। এবারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ‘হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স’ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে ‘মেসার্স ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ’।
চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৩২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। এই অনুমতির শর্ত অনুযায়ী, আগামী ৩ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ চাল আমদানি ও বাজারজাতকরণ সম্পন্ন করতে হবে। উল্লেখ্য যে, এর আগে সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বর মাসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৬ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে পুনরায় এই প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানান, মঙ্গলবার চারটি চালানে ৫১০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি মোটা চাল বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আমদানিকৃত এই খাদ্যশস্য যাতে দ্রুত খালাস করে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট দূর হবে এবং সাধারণ ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে চাল কিনতে পারবেন।