Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আলামতের ‘মধু’তে ভাগ বসাতে গিয়ে শ্রীঘরে জারিকারক সেলিম, খুশিতে আদালত পাড়ায় মিষ্টিমুখ!

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৭:৩৫ এ এম
আলামতের ‘মধু’তে ভাগ বসাতে গিয়ে শ্রীঘরে জারিকারক সেলিম, খুশিতে আদালত পাড়ায় মিষ্টিমুখ!

খুশিতে মিষ্ট বিতরণ করছেন মওদুদ ছবি: ধ্রুব নিউজ

কথায় আছে, ‘সব চোর ধরা পড়ে না, কিন্তু যখন পড়ে তখন তার পালানোর পথ থাকে না’। যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারিকারক সেলিম হোসেনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটলো। মামলার আলামত হিসেবে জমা থাকা ফেনসিডিল সরিয়ে নিজের ভাগ্য বদলাতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই ‘ভাগ্য’ এখন তাকে শ্রীঘরের ডাল-ভাতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যার ঘটনা। মাগরিবের নামাজ পড়ে এসআই শরিফুল ইসলাম যখন আয়েশ করে বসেছিলেন, তখনই তার নজরে আসেন সেলিমের শ্যালক হুমায়ুন কবির। হুমায়ুনের পরনের জ্যাকেটটি যেন প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই ‘স্বাস্থ্যবান’ দেখাচ্ছিল। জ্যাকেটের ভেতর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে সন্দেহ করে পুলিশ এগোতেই শুরু হলো রুদ্ধশ্বাস দৌড়।

শ্যালক যখন দৌড়াচ্ছেন, তখন উত্তর পাশে ব্যাগ হাতে ‘ব্যাকআপ’ দিতে প্রস্তুত ছিলেন খোদ দুলাভাই সেলিম সাহেব। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দুই বীরপুরুষ আদালতের রান্নাঘরে ঢুকে খিল আটকে দিয়ে ভেবেছিলেন বেঁচে গেছেন। কিন্তু শেষমেশ ৪৬ বোতল ফেনসিডিলসহ ধরা পড়তেই বের হয়ে এলো সব জারিজুরি।

সেলিমের এই আটকের খবর যখন আদালত পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন যেন এক অঘোষিত ঈদ শুরু হয়। বিশেষ করে রূপদিয়া বাজারের বাসিন্দা মওদুদ ইসলাম খুশিতে রীতিমতো গদগদ। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি এক ঠোঙা মিষ্টি নিয়ে হাজির। যাকে পাচ্ছেন, তাকেই একটা করে মিষ্টি মুখে পুরে দিচ্ছেন।

মওদুদ মিয়ার আক্ষেপ মেশানো রসিকতা— ‘ভাইরে, জারিকারক সেলিমের অত্যাচারে রূপদিয়ার মাটি হয়ে গিয়েছিল অতিষ্ঠ। পদের দাপট দেখিয়ে আমার জমিটা গিলে ফেলেছিল। আজ যখন খোদ ‘মালিকের মাল’ (আলামত) সরাতে গিয়ে ধরা খেয়েছে, তখন বুঝলাম উপরওয়ালার লাঠি আসলেই নীরব। এই খুশিতে জানটা ঠান্ডা হলো, তাই সবাইকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছি!"

আদালত পাড়ায় সেলিমের বেশ ‘প্রভাবশালী’ ভাবমূর্তি থাকলেও এখন তিনি শুধুই মাদক ও চুরি মামলার আসামি। মামলার আলামত রক্ষা করার কথা থাকলেও সেটি চুরি করে তিনি যে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার পুরস্কার হিসেবে তাকে ও তার শ্যালককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

যে মানুষটি দিনভর অন্যের বাড়ির ঠিকানায় আদালতের নোটিশ পৌঁছে দিতেন, আজ তাকেই আদালতের মাধ্যমে নতুন ঠিকানা—যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)