নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক একই পরিবারের ৪ জন ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের বিসিএমসি কলেজ সংলগ্ন ঢাকা রোড এলাকার একটি বাড়ি। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছিল পুরোদস্তুর এক ‘মিনি অস্ত্রাগার’। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সেই আস্তানায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকসহ চারজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আস্তানার মূল হোতা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও যুবলীগ ক্যাডার আরিফের সাম্রাজ্য এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ২টা থেকে শুরু হয় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান। প্রায় আড়াই ঘণ্টার তল্লাশিতে আরিফের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন, তাজা গুলি ও ১ বক্স এয়ারগানের গুলি। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল ১টি বিশেষ টেলিস্কোপ ও ধারালো দেশি অস্ত্রের বিশাল মজুদ। এছাড়া সেখান থেকে ৫ বোতল বিদেশি মদ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে প্রধান অভিযুক্ত যুবলীগ ক্যাডার আরিফ পালিয়ে গেলেও যৌথ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে তার পরিবারের চার সদস্য। আটককৃতরা হলেন— আরিফের স্ত্রী লোপা খাতুন, দুই ভাই জোয়েব হাসান সাকিল ও জাকির হোসেন সাগর এবং সাগরের স্ত্রী তাহেরা আক্তার তানিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বাড়িটি ছিল যশোর শহরের অপরাধ জগতের অন্যতম ‘কন্ট্রোল রুম’। সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার ও তার ভাই ফন্টু চাকলাদারের সরাসরি মদদে আরিফ ও তার দুই ভাই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে অস্ত্র ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও জমি দখলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বাড়িটি। উদ্ধারকৃত টেলিস্কোপ ইঙ্গিত দেয়, এই ক্যাডার বাহিনী কেবল পাড়ার মাস্তানি নয়, বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষিত এবং কোনো বড় ধরনের কিলিং মিশনের প্রস্তুতিতে ছিল।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পলাতক আরিফকে ধরতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।