রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)
অজ্ঞান চক্রের সদস্য দুলাল ও তিলককে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
পৈত্রিক নামটি হারিয়ে পরিচিত হয়েছেন ‘মলম দুলাল’ নামে। লোকজনের চোখেমুখে মলম কিংবা চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়া তাদের নেশা। খুলনার ফুলতলার এই দুলাল হাওলাদারের যোগ্য সহযোগী মাগুরার তিলক খান। এতদিন অধরা থাকলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি; বাসের এক স্কুলশিক্ষিকাকে সর্বস্বান্ত করার ঘটনায় অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এই দুই চতুর অপরাধী।
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে দুলালকে ও মাগুরা সদর এলাকা থেকে তিলককে গ্রেপ্তার করে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ২৯ জুনের। যশোর থেকে শাপলা পরিবহনে চড়ে কোটচাঁদপুর ফিরছিলেন স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাসটি এলাঙ্গী বাজার এলাকায় পৌঁছালে কৌশল অবলম্বন করে তাকে ডাবের পানি পান করায় ছদ্মবেশী দুলাল। পানি পানের কিছুক্ষণ পরই ঢলে পড়েন চেতনা হারিয়ে। সেই সুযোগে গায়ের সোনার চেইন, আংটি ও খাড়ু খুলে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে সটকে পড়ে অপরাধীরা। পরবর্তীতে গন্তব্যে পৌঁছালে ভুক্তভোগীর স্বামী এসে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় ৩০ জুন কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপরই চলে টঙ্গী ও মাগুরায় একযোগে অভিযান।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনই পেশাদার অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য। দেশের বিভিন্ন থানায় এদের বিরুদ্ধে চেতনানাশক ব্যবহার করে লুটপাটের একাধিক মামলা রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।