কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
৪ বছরের পিতৃহীন শিশু মিশকাতের জীবিকার একমাত্র সম্বল ইজিবাইকটি যাত্রীবেশে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া আন্তঃজেলা দস্যু চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের যৌথ একটি দল চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পিতার মৃত্যুর পর পরিবার চালানোর তাগিদে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের ১৪ বছরের শিশু মিশকাত ইজিবাইক চালানো শুরু করে। গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে চার ব্যক্তি যাত্রীবেশে তার ইজিবাইকে ওঠে। পরবর্তীতে তাকে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন বংকিরা মাঠ এলাকার নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ইজিবাইক এবং মোবাইল ফোনটি ছিনতাই করে চম্পট দেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম শিশু মিশকাতের চাচা বাদী হয়ে গত ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি দস্যুতার মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, পিপিএম দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামীদের গ্রেপ্তারে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম সেলের তদন্ত দল কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের জেলাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সাথে সরাসরি জড়িত চার মূল দস্যু— ১. ডাকাত মো. আকাশ সরদার ওরফে ডাকাত আকাশ, ২. ডাকাত মো. জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), ৩. ডাকাত মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও ৪. ডাকাত মো. আখতার মোল্লা (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লুণ্ঠিত মালামাল কেনাবেচা ও সরবরাহে যুক্ত চক্রের আরও ৬ সদস্য— ৫. চোরাই মালামাল ক্রেতা রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), ৬. সহযোগী মো. লিটন আলী (৫০), ৭. সহযোগী মো. সজীব শেখ (২৪), ৮. সহযোগী মো. মাসুদ রানা (৩২), ৯. সহযোগী মো. ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও ১০. সহযোগী মো. আশরাফুল ইসলাম (৪২)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযানকালে আসামীদের কাছ থেকে ভিকটিম মিশকাতের ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, ১টি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনসহ মোট ৮টি মোবাইল এবং ইজিবাইক বিক্রির নগদ ৩,৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা জেলা জুড়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতা পরিচালনা করে আসছিল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।