Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ১০ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

গোয়ালঘরে লাশ পুঁতে সেই বাড়িতে দিব্বি ছিলেন ঘাতক দম্পতি

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : শনিবার, ৯ মে,২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
আপডেট : রবিবার, ১০ মে,২০২৬, ০১:২৪ পিএম
গোয়ালঘরে লাশ পুঁতে সেই বাড়িতে দিব্বি ছিলেন ঘাতক দম্পতি

নিহত ইকরামুল(ফাইল ফটো), আটক সুয়াদ ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের আল ফুরাদের বাড়ির গোয়ালঘর। প্রতিদিনের মতোই সেখানে গবাদিপশুর যাতায়াত ছিল, ছিল স্বাভাবিক ব্যস্ততা। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় গোয়াল ঘরের মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে এক নৃশংস সত্য। সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ৩৫ দিন ধরে নিখোঁজ ইকরামুল কবিরের অর্ধগলিত দেহ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের যুবক ইকরামুলের সাথে আল ফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। ঘটনার দিন পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন ইকরামুল। সবাইকে আড়াল করে তিনি পৌঁছেছিলেন মুন্নীদের নিভৃত সেই বাড়িতে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে, সেই রাতেই বাড়ির ভেতরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ইকরামুলকে। এরপর গভীর রাতে স্বামী-স্ত্রী মিলে নিপুণ দক্ষতায় গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহটি গুম করেন। মরদেহের ওপরে মাটি দিয়ে এমনভাবে লেপে দেওয়া হয়েছিল যেন বোঝার উপায় না থাকে যে সেখানে সবেই মাটি খোঁড়া হয়েছে। এমনকি গত এক মাস ধরে সেই মাটির ওপরেই অবলীলায় হাঁটাচলা করেছেন অভিযুক্ত দম্পতি।

শনিবার বিকেলে আটক আল ফুরাদকে সাথে নিয়ে যখন পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযানে যায়, তখনো মুন্নী বেগমের চেহারায় ছিল স্বাভাবিকতা। কিন্তু গোয়ালঘরের এক কোণে মাটির বিশেষ স্তূপ আর অস্বাভাবিক বসে যাওয়া অংশটিই ধরিয়ে দেয় খুনিদের। মরদেহের গলায় তখনও প্যাঁচানো ছিল শক্ত দড়ি, যা প্রমাণ দেয় যে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত খুনিরা ক্ষান্ত হয়নি। পরকীয়ার টানাপোড়েন নাকি পাওনা টাকার বিরোধ—কোনটি মূল কারণ ছিল, তা এখনও জানা যায়নি।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আটক আল ফুরাদ ও তার স্ত্রী মুন্নীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির বর্ণনা বলছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তথ্য-প্রমাণ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা।

নিহত ইকরামুল কবির শার্শার দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক মাস আগে তিনি আল ফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের কাছে গিয়েছিলেন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসী ভাবতেই পারছে না, পাশের বাড়ির চেনা মানুষগুলো এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি মরদেহ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)