নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্র্শিতব্দায পাঠ করুন মুর্শিদা আক্তার রেনুকা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েও হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মুর্শিদা আক্তার রেনুকা নামে এক গৃহবধূ। মামলার তদন্তে গাফিলতি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঝিকরগাছা উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের মুর্শিদা আক্তার জানান, গত ১৩ মার্চ নিজ পিত্রালয়ে রান্নাঘর মেরামতের সময় স্থানীয় ইসমাইল হোসেন গাজী ও ইমরান হোসেন সরদারসহ একদল সন্ত্রাসী তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয় এবং পিঠে চাকুর আঘাতে গুরুতর জখম করে। এসময় তার শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ওইদিনই যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে সাত দিন ভর্তি থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ প্রদান করছে না। এমনকি মামলার তদন্তকারী সংস্থাগুলোও হাসপাতাল থেকে সনদ সংগ্রহের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। চিকিৎসা সনদ না থাকায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা করার পর পিবিআই ও পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও সংস্থাগুলো আরজির সাথে মিল না রেখে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এর ফলে তিনি কয়েকবার আদালতে 'নারাজি' পিটিশন দাখিল করেছেন।
মুর্শিদা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের ধরছে না বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদা আক্তারের পিতা ইদ্রিস আলী ও বোন নূর জাহান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত জানান, এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি এখনো পাননি। তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।