ধ্রুব ডেস্ক
দেশের লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার守卫 বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তীব্র বাধার মুখে তাদের এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর প্রতিরোধে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে এসব অসহায় মানুষ বর্তমানে সীমান্ত রেখার শূন্যরেখায় এবং নো ম্যান্স ল্যান্ডে অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে অবস্থান করছেন।
লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে গভীর রাতে অন্তত ৩৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বিজিবি টহল দল দ্রুত সতর্ক অবস্থান নিয়ে এই অনুপ্রবেশ রুখে দেয়। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তে ১২ জন এবং তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানভীর আহমেদ জানান, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্তে ২১ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্তগুলোতে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে এবং পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিরা তাদের লাগেজসহ শূন্যরেখায় দিন কাটাচ্ছেন।
একইভাবে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি–প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৫ পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে সাকাতি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা। বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পুশ ইনের শিকার ব্যক্তিরা এখনো শূন্যরেখার খোলা আকাশের নিচে ফসলি জমিতে অবস্থান করছেন। বিজিবি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই সংকট নিরসনে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
এদিকে নওগাঁর সাপাহারের হাপানিয়া সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে ভারতের ৮৮ বিএসএফ পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) হাপানিয়া সীমান্তচৌকির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বর্তমানে এই ১৭ জন ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১২ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬টি শিশুসহ মোট ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে তারা আসতে না পেরে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন। স্থানীয় বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, এই ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রায়, যারা দুই বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন। তারা খোলা আকাশের নিচে ভারী বৃষ্টিতে ভিজছেন এবং পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছেন না, যার ফলে এক বয়োবৃদ্ধ নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এবং রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কামাল হোসেন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ পুশ ইনের কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে আর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিজিবির পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের এমন অন্তত ১০টি পৃথক পুশ ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।