নিজস্ব প্রতিবেদক
তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় রাজধানী ঢাকায় পাচারের পথে ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ২০০ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় কফ সিরাপসহ (কোডিনযুক্ত) তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোররাতে যশোর শহরের মনিহার-মুড়লি সড়কের বকচর হুশতলা এলাকার একটি মার্কেটের সামনে থেকে একটি পিকআপ ভ্যানসহ তাদের আটক করা হয়। আটক মাদক কারবারিরা হলো— ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার কুড়ালঘাট এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মনির ওরফে মতিন, একই এলাকার হাসাননগর গ্রামের মৃত আসাদুল্লাহর ছেলে শমসের আলম এবং ব্যাটারঘাট এলাকার দুলাল সর্দারের ছেলে রাহাত।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত গলিয়ে মাদকের একটি বড় চালান পিকআপ ভ্যানে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল বকচর হুশতলা এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোররাতে সন্দেহভাজন একটি সাদা রঙের পিকআপ ভ্যানকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। এ সময় পিকআপে থাকা তিন আরোহীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাদের ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে আটক মাদক কারবারি মনির ওরফে মতিন, মাদক কারবারি শমসের আলম ও মাদক কারবারি রাহাতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পিকআপের কেবিনের ভেতরের সিটের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা একটি গোপন কুঠুরির সন্ধান মেলে। সেখান থেকে অভিনব উপায়ে লুকিয়ে রাখা ২০০ বোতল আমদানি নিষিদ্ধ কফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করেছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কড়া নজরদারির কারণে বাজারে ফেনসিডিলের সংকট তৈরি হওয়ায় মাদক কারবারিরা এখন ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে এই উচ্চ ঘনত্বের কোডিনযুক্ত ভারতীয় কফ সিরাপ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আটক চক্রটি মূলত ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে এসে সীমান্তবর্তী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই চালানটি সংগ্রহ করেছিল। এই চক্রের সাথে যশোরের স্থানীয় আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক তিন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।