❒ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদার প্রতারণার এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগীরা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা, কখনো এনজিওর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আবার কখনো সাংবাদিক—পরিচয় যখন যেটা প্রয়োজন, সেটা ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন প্রতারক মাহমুদা জামান ওরফে মাহমুদা। এরপর লোন পাইয়ে দেওয়া কিংবা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। শুধু নগদ টাকাই নয়, জামানত হিসেবে কৌশলে লিখে নিতেন ভুক্তভোগীদের স্বাক্ষরিত ব্ল্যাঙ্ক চেকও। এভাবে যশোর, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শত শত মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে এই নারীর বিরুদ্ধে।
শনিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদার প্রতারণার এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুস সোবাহান। অভিযুক্ত মাহমুদা জামান যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে এবং বর্তমানে তিনি রাজধানীর লালবাগ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন চকবাজার দ্বিগুবাগ লেনের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, বসতবাড়ি নির্মাণে লোন ও চাকরির আশায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও তিনটি ব্যাংক চেক খুইয়েছেন ইন্নাতুল হাসান। এনজিওতে চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার দীপু খাতুন। ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে ৬ লাখ টাকা ও তিনটি ফাঁকা চেক দিয়েছেন শুকুর আলী। এছাড়া চাকরির নামে ইমরান হোসেনের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ এবং সোহান হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ও তিনটি চেক হাতিয়ে নিয়েছেন মাহমুদা। বড় অঙ্কের ঋণের আশায় ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চারটি ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়ে এখন দিশেহারা তানজিনা রহমান। একইভাবে আল আমিন হোসেন, রমজান, সাইদুর রহমান রিপন ও হাবিবুর রহমানের মতো আরও অনেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা এবং অসংখ্য স্বাক্ষরিত চেক হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, তারা অধিকাংশই নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ জমি বন্ধক রেখে, কেউবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মাহমুদার হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন একটু সচ্ছলতার আশায়। এখন টাকা ও চেক হারিয়ে তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। প্রতারণার শিকার ইন্নাতুল হাসান, শান্তনা, নুপুর, শাহিনা, দিতি ও সুখজানসহ উপস্থিত সকলেই অবিলম্বে মাহমুদার গ্রেপ্তার এবং তাদের আমানত উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মাহমুদা একজন পেশাদার প্রতারক এবং তার এই চক্রের শেকড় অনেক গভীরে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় না আনলে আরও বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।