Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরে মহাকবি মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন,২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
যশোরে মহাকবি মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

ছবি: ধ্রুব নিউজ

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোরে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা কালেক্টরেট সভা কক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এতে বিশেষ অতিথি ও মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস, সরকারি সিটি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার কামরুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক অধ্যাপক শওকত শাহী, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।

সভায় বক্তারা মহাকবির জন্ম, বেড়ে ওঠা, সাহিত্য সাধনা এবং তাঁর শেষ জীবনের চরম ট্র্যাজেডি ও অনন্য অবদানের বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদন। কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় কেটেছে তাঁর শৈশব, যা পরবর্তীতে সুদূর ফ্রান্সে বসেও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে এবং সৃষ্টি করেছে কালজয়ী সনেট ‘কপোতাক্ষ নদ’। কলকাতার হিন্দু কলেজে পড়ার সময় ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগে এবং বিলেত যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ১৮৪৩ সালে তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরের ফলে পিতা ও পরিবার থেকে বিচ্যুত হওয়া তাঁর জীবনের প্রথম বড় সংকটের সৃষ্টি করে।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, মধুসূদন শুধু দেশের সাহিত্যে নয়, বরং বিশ্ব সাহিত্যে অনন্য আলো ছড়িয়েছেন। ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করলেও পরবর্তীতে মাতৃভাষার টানে তিনি বাংলায় মনোনিবেশ করেন এবং সৃষ্টি করেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করে ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’। তাঁর সৃষ্ট ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘কৃষ্ণকুমারী’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ এবং ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ (সনেট) বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। আলোচকদের মতে, মধুসূদনের আগে সাহিত্যে কোনো ব্যক্তি-স্বাধীনতা ছিল না। তিনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটান, মানুষের মনে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের সঞ্চার করেন এবং উগ্রপন্থী, অশ্লীলতা ও অত্যাচার-শোষণের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে সোচ্চার করে তোলেন।

মহাকবির জীবনের শেষ অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, অমিতব্যয়ী জীবনযাপন, ঋণগ্রস্ততা এবং চরম অর্থকষ্টের কারণে তাঁর শেষ জীবন কাটে ঘোর অন্ধকারে। ব্যারিস্টারি পাস করলেও আইন পেশায় তিনি থিতু হতে পারেননি। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক দাতব্য হাসপাতালে অত্যন্ত অবহেলা আর একাকীত্বের মধ্যে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে এই মহান কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আলোচনা সভা শেষে মহাকবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত আবৃত্তি, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)