স্টাফ রিপোর্টার
‘সংগীত হোক বিশ্বজয়ের মন্ত্র’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে বিশ্ব সংগীত দিবস উদযাপিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
‘সংগীত হোক বিশ্বজয়ের মন্ত্র’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে বিশ্ব সংগীত দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গতকাল ২১ জুন রোববার যশোরের জেলা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ দিবস উদযাপন করে।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, কলাকুশলী এবং নেতৃবৃন্দ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন থেকে একটি র্যালি বের করেন। র্যালি শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুরধ্বনি সংগীত নিকেতনের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের ওপর একটি গোষ্ঠী উর্দু ভাষা, সংস্কৃতি এবং গান চাপিয়ে দেওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বাংলাদেশের আউল, বাউল, জারি, সারি, মুর্শিদি গানের ওপর একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অনুষ্ঠান পণ্ড করাসহ নানারকম জুলুম-অত্যাচার শুরু করেছে, যা জাতির জন্য মোটেই শুভকর নয়।”
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ মধুমতি যশোর অঞ্চলের সভাপতি হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তির্যক’ যশোরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, কিংশুক সঙ্গীত একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আনারুল করিম এবং কাজী সাহেদ নেওয়াজ প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নেতৃবৃন্দ বিশ্ব সংগীত দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৯ সালে ফ্রান্সে প্রথম রাস্তা, রেস্টুরেন্ট ও খোলা স্টেজে এই সংগীত চর্চা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে উন্মুক্ত মঞ্চে ও খোলা ময়দানে এই গানের চর্চা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিশ্বের ১২১টি দেশে এবং ৭০০টি শহরে খোলা ময়দানে এ গানের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল যশোরের এই উন্মুক্ত মঞ্চেও বর্ণাঢ্য সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।