তৌফিকুর রহমান, গঙ্গানন্দপুর
যশোর জেলায় শীত শেষের দিকে বোরো ধান চাষের কাজ এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে। আমন ধান উঠার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং শীতের মধ্যেই বীজ বপন ও সেচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বছর জেলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৭,৭৭৫ হেক্টর বীজতলা তৈরির, যা চাষীদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে যে এবারের বোরো মৌসুম ভালো ফলন দেবে। যশোরের কৃষকেরা বোরো ধান থেকে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।
বোরো ধান চাষে লাভের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় তথ্য অনুসারে, দেশে বোরো মৌসুমে মোট বোরো ধানের উৎপাদন প্রায় ২.১৩ কোটি টন, যা গত অর্থবছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি সারাদেশে রেকর্ড পর্যায়ের ফলনের একটি চিহ্ন হলেও উৎপাদনের খরচ ও লাভ-ক্ষতির ভারসাম্য চাষির জন্য সব সময় সহজ নয়।
খরচ: বোরো ধান চাষে সেচ, সার, শ্রমিক ও বীজসহ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। লাভ উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্যবহার ও বাজারে ভালো দাম পেলে লাভের সম্ভাবনা থাকে।
চাষিরা মনে করেন, যদি বাজার মূল্য ও খরচের ভারসাম্য ঠিক থাকে, তবে বোরো থেকে তারা ভালো আয় করতে পারবেন।
কৃষক মাছুদ হোসেন বলেন, ধান চাষে লাভ নেই তবে পরিবার নিয়ে পথে বসতে না হয় আর পেটের ক্ষুধা কারণে আমরা বার বার ধান চাষে জড়াচ্ছি, মাহাজনের ঋণ পরিশোধ করতে পারছি না। ধানের দাম খরচের তুলনায় অনেক কম।
যশোর জেলায় গত মৌসুমে (২০২৪-২৫) বোরো ধানের চাষ হয়েছিল প্রায় ১,৫৭,৮৮০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে এটি প্রায় ১,৬০,৭৭৫ হেক্টর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কয়েক হাজার হেক্টর বেশি। এতে থেকে প্রায় ৭,২৮,০০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে।
কৃষক রাকিব বলেন, আমরা ন্যায্য মূল্যে সার, তেল, কীটনাশক কিনতে পারছিনা কারণ অতিরিক্ত মূল্য স্ফীতি জন্য যা কিনতে যায় তার দাম বেশি। আমরা ধান চাষ করে লাভের চেয়ে লসে পড়ছি যখন ধানের দাম না পায়, সারাবছর ধান চাষ করে পরিবারের খরচ তুলতে কষ্ট হয়ে যায়।