❒ ১১ মার্চ স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন আইজীবীরা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে দুই বিচারকের আদালত বর্জনের কর্মসূচি এবার চূড়ান্ত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। গত ৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি অব্যাহত রেখে এবার তাদের অপসারণ ও দায়িত্ব পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। দাবি আদায় না হলে আগামী ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ.এইচ. সাবেরুল হক সাবু। সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ৬০ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ (ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ) আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ রাশেদুর রহমানের আদালতে বিচারিক কর্মকাণ্ডে চরম আইনি ব্যত্যয় ও পেশাগত অসদাচরণ লক্ষ্য করা গেছে। গত ৪ মার্চ থেকে সাধারণ আইনজীবীরা এই দুই আদালত বর্জন করে আসছেন। প্রায় ২৫০ জন আইনজীবীর গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় এই বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ.এইচ. সাবেরুল হক সাবু বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে আইনজীবীরা যে ন্যূনতম বিচারিক দক্ষতা ও পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করেন, তা আমরা পাইনি। আমরা বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে কাজ করতে চাই, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ আইরিন পারভীনের অপসারণ অথবা তার দায়িত্ব অন্য কোনো যোগ্য বিচারকের কাছে অর্পণ না করা পর্যন্ত আমরা আদালতে ফিরছি না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, আদালত প্রশাসন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে বরং আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। এতে আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে আইনজীবীরা দাবি করেন। এছাড়া আইনজীবী ছাড়াই আসামিকে জামিন দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা এবং চেক সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারকের বিতর্কিত মন্তব্য বিচারিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি করছে।
সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, দ্রুত ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ আইরিন পারভীনের অপসারণ এবং নতুন জেলা জজ পদায়ন করা না হলে আগামী ১১ মার্চ দুপুর ১টায় আইনজীবী ভবন থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।