নিজস্ব প্রতিবেদক
মণিরামপুরের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম হত্যা মামলায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক কামাল হোসেন আদালতে এই চার্জশিট জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো মণিরামপুরের ইছানী গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মনিবুর রহমান সবুজ ও কামরুজ্জামান মিলন, সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন, বজলুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান টগর এবং আবুল কাশেমের ছেলে রায়হান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নিহত আশরাফুল ইসলাম মোবারকপুর গ্রামের মৃত আজাহার মাস্টারের ছেলে। তিনি চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ১ নম্বর মোবারকপুর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আসামিরা প্রায় সময় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আশরাফুলকে খুন-জখমের হুমকি দিত।
গত ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট রাতে আশরাফুল ইসলাম রাজগঞ্জ বাজারে আতাউর রহমান আতার চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন অপরিচিত লোক দোকানে ঢুকে আশরাফুলকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। তখন দোকানে থাকা শাহীন তারেক বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে। আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত শাহীন তারেককে প্রথমে যশোর ও পরে ঢাকায় রেফার করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল করিম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকালে মনিবুর রহমান সবুজকে আটক করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওই ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক কামাল হোসেন। চার্জশিটভুক্ত আসামি মোস্তাফিজুর রহমান টগর, কামরুজ্জামান মিলন ও রায়হান বর্তমানে পলাতক রয়েছে।