নিজস্ব প্রতিবেদক
শার্শায় আটক আলীগ নেতা টিংকা ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পৃথক অভিযানে আটক কার্য়ক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৬ জন কর্মীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিগত সময়ে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (৮ জুন) আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কোতোয়ালি থানার এসআই ইলিয়াস হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহরের লালদিঘির পাড়স্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— রেলগেট পশ্চিমপাড়ার আনিসুর রহমান সাজু, জয়ন্তা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বকচর চৌধুরীপাড়ার নাজমুল ওরফে তুহিন, হামিদপুরের মনিরুল ইসলাম এবং পুরাতন কসবার ইমরান খান বাদল। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার এসআই রাইসুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর-মণিরামপুর সড়কের কানাইতলা নামক স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন— সদর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের আলী রাজ, মারুফ খান, আলিমুল ইসলাম, রাহাত হোসেন ও মাহবুবুর রহমান; শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার দুলাল হোসেন এবং চৌগাছা উপজেলার বুরিংদিয়া গ্রামের মামুন হোসেন। আটককৃতদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর যশোরের উপশহর পার্ক রোডে পার্কিং করা একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের ৪ সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার এসআই অনুপ কুমার মন্ডল জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপশহর ট্রাক স্ট্যান্ড বস্তির রহিম ওরফে কালু, বারান্দী মোল্লাপাড়া আমতলা এলাকার রফিকুল ইসলাম, বিরামপুর গুলশান মোড়ের জাহিদ হাসান এবং বিরামপুর জমিদার মোড়ের নেওয়াজ শরীফ ওরফে সাগর খন্দকারকে আটক করা হয়েছে। সোমবার এই চারজনকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সহিংসতায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।