Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ রম্য প্রতিবেদন

ব্যানারের আর্তনাদ: "আমাকে ছিঁড়ছ ছিঁড়ো, মানুষকে ছিঁড়ো না!"

তাজাম্মুল হক, কেশবপুর তাজাম্মুল হক, কেশবপুর
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ জানুয়ারি,২০২৬, ১১:১০ এ এম
আপডেট : শনিবার, ৩১ জানুয়ারি,২০২৬, ১১:০৫ এ এম
ব্যানারের আর্তনাদ: "আমাকে ছিঁড়ছ ছিঁড়ো, মানুষকে ছিঁড়ো না!"

কে বা কারা রাতের আঁধারে কেশবপুরে জামায়াত জোর্টের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলীর ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে ছবি: ধ্রুব নিউজ

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের একটি রাস্তার মোড়ে ঝুলতে থাকা এক হতভাগ্য নির্বাচনী ব্যানার গতপরশু রাতে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত 'সার্জারি'র শিকার হয়েছে। তবে ব্যানারটি সাধারণ কোনো প্লাস্টিক বা কাপড়ের টুকরো নয়; এটি ছিল উচ্চশিক্ষিত এবং বেশ দার্শনিক মনোভাবাপন্ন। হামলার পর ব্যানারটির যে করুণ দশা হয়েছে—বিশেষ করে পেটের কাছ থেকে যেভাবে বিশাল এক অংশ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে—তা দেখে পাড়ার কুকুরগুলোও শোকাতুর হয়ে ঘেউ ঘেউ করছে।

আমাদের প্রতিনিধি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন ব্যানারটি তার শরীরের সেই বিশাল গর্ত (যেখানে আগে সম্ভবত প্রার্থীর আত্মবিশ্বাসী মুখ ছিল) দিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছিল, "আহারে! আমাকে ছিঁড়লি তো ছিঁড়লি, অন্তত গায়ের লেখাগুলো তো শেষবার পড়তে পারতি! আমি তো চেয়েছিলাম তোদের সেবা করতে, আর তোরা আমাকেই সেভ (Save) করার বদলে শেভ (Shave) করে দিলি?"

ব্যানারটি আধো-আধো গলায়, শীতের বাতাসের ঝাপটায় ছেঁড়া অংশের পতপত শব্দে জানায় তার অন্তিম ইচ্ছা:
"দেখুন ভাই, আমি তো আর নির্বাচন করছি না। আমি তো কেবল একটা বিজ্ঞাপন। আমাকে ছিঁড়ে কার কী লাভ হলো? আমাকে ছিঁড়লে প্রার্থীর ওজন কমে না, বরং আমার নিজের ওজন কমে যায়। আমাকে যারা ছিঁড়েছে, তাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ— আমাকে ছিঁড়ছ ছিঁড়ো, তাতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই; কিন্তু দয়া করে মানুষকে ছিড়ো না।

আমাকে ছিঁড়লে কেবল সুতো বের হয়, প্লাস্টিকের কণা ওড়ে। সুতো দিয়ে বড়জোর কারো কাঁথা সেলাই করা যায়, কিন্তু মানুষকে ছিঁড়লে রক্ত বের হয়, সমাজ ছিঁড়ে যায়। মানুষের মন একবার ছিঁড়ে গেলে তা কোনো দর্জি জোড়া লাগাতে পারে না। তাই বলছি, রাগ ঝাড়ার জন্য আমিই যথেষ্ট, আমার ওপর দিয়েই সব চালিয়ে দাও, কিন্তু রক্তমাংসের মানুষগুলোকে অন্তত শান্তিতে থাকতে দাও!"

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক বৃদ্ধ চশমা ঠিক করতে করতে বললেন, "বাবা রে, এই ব্যানারটার ভাগ্য ভালো যে ও কথা বলতে পারে না। কথা বলতে পারলে ও বলত—'ভাইরে, শীতের দিন, আমাকে না ছিঁড়ে কারো গায়ে চাদর হিসেবে দিয়ে দিতি, তাও তো একটা পুণ্যি হতো! এখন তো আমি কেবল বৃষ্টির পানি আটকানোর অযোগ্য এক টুকরো প্লাস্টিক!'"

অন্যদিকে, পাড়ার চায়ের দোকানের আড্ডায় এক যুবক রসিকতা করে বললেন, "আসলে দুর্বৃত্তরা ব্যানারের ছিদ্র দিয়ে ওপাশে কী আছে তা দেখতে চেয়েছিল। তারা হয়তো ভেবেছিল ব্যানারের ওই হাসিমুখের ওপাশে বিরিয়ানির প্যাকেট বা কোনো উন্নয়নের গুপ্তধন লুকানো আছে!"

এক 'ব্যানার বিশেষজ্ঞ' (যিনি সারাদিন পোস্টার লাগান) জানান, "এটি একটি পরিকল্পিত 'ছিদ্রকরণ কর্মসূচি'। শীতের রাতে বাতাস চলাচলের জন্য হয়তো দুর্বৃত্তরা দয়াপরবশ হয়ে এই ছিদ্রগুলো করে দিয়েছে যাতে প্রার্থীর ছবিটা একটু হাওয়া-বাতাস পায়। তবে ছিদ্রটা প্রার্থীর মুখের ওপর হওয়াতে এখন মনে হচ্ছে প্রার্থী মশাই জানলা দিয়ে উঁকি দিচ্ছেন!"

যশোরের এই ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ থাকলেও ব্যানারটির নির্লিপ্ত দার্শনিকতা সবাইকে অবাক করেছে। ব্যানারটির শেষ কথা ছিল— "আমি তো ছিঁড়ে গেছি, কাল হয়তো আমার জায়গায় নতুন চকচকে আরেকটা ব্যানার আসবে। কিন্তু যারা আজ আমাকে ছিঁড়ল, তাদের বিবেকের সেই বিশাল ফুটো কি কোনো মিস্ত্রি মেরামত করতে পারবে?"

রিপোর্টটি শেষ করার সময় দেখা গেল, একটি ভবঘুরে ছাগল ব্যানারের নিচের ঝুলে থাকা অংশটি খুব আয়েশ করে চিবানোর চেষ্টা করছে। মনে হলো, অন্তত একজনের কাছে এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলাফল বেশ 'সুস্বাদু' এবং ফাইবার সমৃদ্ধ!


(এটি একটি রম্য প্রতিবেদন, যা কেবল পরিস্থিতির উপহাস হিসেবে এবং ভোট রঙ্গ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন,  শুক্রবার সকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাইকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছেন। )

 

 

 

 

 

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)