Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

খালি হাতে ১০১ তলা ভবনে বেয়ে উঠলেন অ্যালেক্স হনল্ড

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ জানুয়ারি,২০২৬, ০৭:০৬ এ এম
খালি হাতে ১০১ তলা ভবনে বেয়ে উঠলেন অ্যালেক্স হনল্ড

অ্যালেক্স হনল্ড ছবি: সংগৃহীত

রোববারের এক উজ্জ্বল সকাল। তাইওয়ানের রাজধানী তাইপের সবচেয়ে উঁচু ভবন তাইপে ১০১। ভবনটির নিচে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে হাজারো মানুষ। দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের বুক ধুকপুক করছে। একই সঙ্গে পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ তাকিয়ে আছে নেটফ্লিক্স লাইভের দিকে। কারণ, ঠিক ৯২ মিনিট ধরে শ্বাসরুদ্ধকর এক মুহূর্তের জন্ম হচ্ছিল। বিশ্বখ্যাত ফ্রি সলো ক্লাইম্বার অ্যালেক্স হনল্ড পৃথিবীর অন্যতম উঁচু ভবন তাইপে ১০১ বেয়ে ওপরে উঠছিলেন।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্স হনল্ড ভবনের চূড়ার শেষ ইঞ্চিটুকু পার করেন, যার উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট বা ৫০৮ মিটার। আরোহণ শেষ করে যখন তিনি ভবনের উঁচু চূড়ায় উঠে দাঁড়ান, তখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। নিচে উল্লাস করছে তাইপেবাসী। ভিড়ের দিকে হাত নাড়াচ্ছেন হনল্ড। এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে ক্লাইম্বিং ইতিহাসের এক আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে দুইটি সেলফি ভাইরাল হয়ে গেছে। অ্যালেক্স হনল্ড তাইপে শহরকে পেছনে রেখে দুটি সেলফি তুলেছেন।
এই প্রথম কোনো মানুষ তাইপে ১০১ ভবনে ‘ফ্রি সলো’ করেছেন। ফ্রি সলো মানে কোনো রশি নেই, কোনো সেফটি নেট নেই। নেই কোনো যান্ত্রিক সহায়তা। শুধু খালি হাত আর গ্রিপ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে আছে সামান্য চক।

 

ক্লাইম্ব শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে হনল্ড বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। কয়েক দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমি যেন আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছি। কত দিন ধরে ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়, হবে কি না। কিন্তু যখন সত্যিই করে ফেলি, তখন অনুভূতিটা সব সময়ই আলাদা।’
২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তাইওয়ানের এই গগনচুম্বী ভবনে ওঠা হনল্ডের বয়স এখন ৪০। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ক্লাইম্বিং দুনিয়ার পরিচিত মুখ। বিশের কোঠায় থাকতেই কঠিন রুটে সফল ফ্রি সলো ক্লাইম্ব করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ২০১৭ সালে ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের এল ক্যাপিটান সম্পূর্ণ রশিবিহীনভাবে বেয়ে ওঠার পরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে যান। সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেন। সেই ভয়ংকর অভিযানের গল্প ধরা পড়ে অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি ‘ফ্রি সলো’তে।
কখনো থেমে যাননি হনল্ড। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজে নিয়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন। তাইপে ১০১-এ ওঠার ইচ্ছা তাঁর এক দশকের বেশি সময় ধরে। কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। পুরো ক্লাইম্বটি নেটফ্লিক্সে লাইভ স্ট্রিম করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ও ক্যামেরা পারসন রশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঝুলে বিভিন্ন দিক থেকে হনল্ডকে ভিডিও করেন। হনল্ড এই বেয়ে ওঠাকে বলেছেন, এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শহুরে ফ্রি সলো ক্লাইম্ব।
আসলে এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল শনিবার সকালে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। রোবার সকালে আকাশ ছিল নীল, বাতাস ছিল শান্ত। একেবারে আদর্শ পরিবেশ। সেই সুযোগেই শুরু হয় আরোহণ।
হনল্ডের ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে শান্ত রাখা। এত মানুষ, এত নজর, সব মিলিয়ে চাপটা বেশি লাগছিল। কিন্তু যত ওপরে উঠেছি, ততই শান্ত হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিল, এ তো দারুণ মজা, এ জন্যই তো আমি এটা করি।

অ্যালেক্স হনল্ড অবশ্য এই ভবনের প্রথম আরোহণকারী নন। ২০০৪ সালে ফরাসি ক্লাইম্বার অ্যালাঁ রোবেয়ার্ট তাইপে ১০১-এর চূড়ায় উঠেছিলেন, তবে রশির সাহায্যে। ভবনটির উদ্বোধন উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেদিন ছিল বৃষ্টি আর প্রবল বাতাস, ফলে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। সে তুলনায় হনল্ডের লেগেছে মাত্র দেড় ঘণ্টা।
রোবেয়ার্ট আর হনল্ড, দুজনই বলেছেন, ভবনটি বেয়ে ওঠা তাঁদের পরিচিত পাহাড়ি বা পাথুরে রুটের মতো অতটা জটিল নয়। কাচের পিচ্ছিল দেয়ালে ঝুলে থাকতে হয়নি হনল্ডকে। ধাতব কাঠামো, বিম আর কাঠামোর বেরিয়ে আসা অংশ ছিল, যেগুলো ধরে ওপরে আগানো সম্ভব। যদিও ওপরে উঠতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় বেশ কিছু বিশেষ কৌশল করতে হয়েছে। সেগুলোও হনল্ড অনায়াসে পার করে দ্রুত ওপরে উঠেছেন। মাঝেমধ্যে বারান্দার মতো ধাপে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। নিচের মানুষদের দিকে হাত নেড়েছেন।
এই পুরো সময়ে মনে মনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন অ্যালেক্স হনল্ডের স্ত্রী স্যানি ম্যাকক্যান্ডলেস। তিনি ভবনের ভেতর থেকে কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখছিলেন। একতলায় এসে হনল্ড যখন কাচের ওপাশ দিয়ে হাত নেড়েছিলেন, স্যানিও তাঁকে দেখে হাত নাড়ান। চূড়ায় ওঠার পর ভেতরের এক বারান্দায় দুজনের দেখা হয়। আলিঙ্গনের পর স্যানি মজা করে বলেন, ‘পুরো সময়টাই আমার প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিল।’
২০০৪ সালে উদ্বোধনের সময় তাইপে ১০১ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন। পরে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নেয়। এরপর আরও অনেক উঁচু ভবন তৈরি হয়েছে, নিউইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও যার মধ্যে আছে। তবু তাইপে শহরের আকাশরেখায় তাইপে ১০১ আজও এক অনন্য বিস্ময়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে হনল্ডকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সত্যিই স্নায়ু কাঁপানো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্লাইম্ব শেষ করে হনল্ড বলেছেন, তিনি চান এই দৃশ্য দেখে মানুষ নিজেদের লক্ষ্য আর চ্যালেঞ্জের পেছনে ছুটতে অনুপ্রাণিত হোক।

সূত্র: সিএনএন

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)