ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কর্ন স্টেডিয়ামে গোলের বৃষ্টি দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণে তছনছ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী, অন্যদিকে গোল উৎসবের আনন্দ নিয়ে আসিয়ান কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের ১১তম মিনিটে মিচেল লি বেকারের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। ২০ মিনিটে আবারও বেকারের গোল। বাংলাদেশ সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও মাঝমাঠের ভুলেই উল্টো গোল হজম করতে হয়। ৩১ মিনিটে রিজকি রিদো দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। সুকি ইতোফুসার নিচু ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান শাহরিয়ার ইমন। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৭ মিনিটে আবারও বেকারের গোল—পুরো করেন নিজের হ্যাটট্রিক। এরপর ৪২ মিনিটে আবারও বেকার এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হাবনারের হেডে বাংলাদেশ ৬-১ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটেই ৪টি গোল হজম করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শমিত সোম। কোচ টমাস ডুলি দল গুছিয়ে নিতে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামেন ফারহান আলী, মিনহাজ ও সোহেল রানা। বদলি নামার পর বাংলাদেশ টানা ১৫ মিনিট কোনো গোল হজম না করে রক্ষণে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে ছড়িয়ে পড়ে চরম উত্তেজনা ও নাটকীয়তা। ৮৪ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বাংলাদেশ একটি গোল পরিশোধ করে। রাকিব হোসেনের ক্রস থেকে দুর্দান্ত প্লেসমেন্টে দ্বিতীয় গোলটি পান ফারহান আলী (৭-২)।
গোলের পরপরই মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও চরম মারামারি লেগে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর চতুর্থ রেফারি যোগ করা সময় ৭ মিনিট হিসেবে নির্ধারণ করেন। এই অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে কেভিন ডিকস এবং সপ্তম মিনিটে আবার লি বেকার গোল করলে ইন্দোনেশিয়ার ৯-২ গোলের বড় জয় সুনিশ্চিত হয়।
এই জয়ে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানে মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে আসিয়ান কাপের ফাইনালে উঠে গেল ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে, বিদায় তো আগেই নিশ্চিত হয়েছিল, বড় ব্যবধানের হারের চরম হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।