ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগিজ ফুটবলে হঠাৎ নেমে এসেছে চরম অস্থিরতা। জাতীয় দলের ভেতর তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ বিবাদ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে খোদ পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রোকে। উদ্ভূত সংকট কাটাতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রুয়েনসা, জাতীয় দলের প্রধান কোচ জর্জে জেসুস এবং তারকা মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে জরুরিভিত্তিতে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এসআইসি সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সংকটের সূত্রপাত মূলত উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। উক্ত ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা না পাওয়ায় হেড কোচ জর্জে জেসুসের ওপর ক্ষুব্ধ হন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এর পরপরই এফপিএফ প্রধান পেদ্রো প্রুয়েনসার সঙ্গে বৈঠকে বসেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু আলোচনায় বরফ না গলায় এবং সংবাদ সম্মেলনে কোচের মন্তব্য পছন্দ না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক এক বার্তায় জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেন রোনালদো। একই সাথে, দল ত্যাগ করার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর সব কারণ খুব শীঘ্রই প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
অন্যদিকে, ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় বা অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর এড়িয়ে যান কোচ জেসুস। তবে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দেন যে, একাদশ গঠন বা স্কোয়াড নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সর্বময় ক্ষমতা কেবল তাঁরই রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াদৈনিক 'আ বোলা'সহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্তেনেগ্রোর হস্তক্ষেপর পরেই পুরো নাটকে নতুন মোড় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর ফোনকলের পর পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং রোনালদো হয়তো আবারও ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হতে পারেন। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা জানতে আপাতত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে।