ক্রীড়া ডেস্ক
কিলিয়ান এমবাপ্পে ছবি: সংগৃহীত
কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর থেকেও যে কত বড় অপরাধ চক্র চালানো যায়, তা দেখে হতবাক ফরাসি প্রশাসন। ১৮ বছরের এক তরুণের সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক অপরাধের পরিকল্পনার জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপে! কেবল ফরাসি এই ফরোয়ার্ডই নন, তার হিটলিস্টে ছিলেন একাধিক তারকা ফুটবলার, নামজাদা র্যাপার ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা।
ফরাসি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'লা পারিজিয়েন'-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অপরাধ চক্রটির মূল মাস্টারমাইন্ড ১৮ বছর বয়সী এক ফরাসি-সুইস তরুণ, যার নাম ক্লিমেন্ট এল। সশস্ত্র ডাকাতি ও মানবপাচারের দায়ে সে বর্তমানে ভিলপেন্ট কারাগারে সাজা ভোগ করছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, সেখানে বসেই ‘লেস্টার জেড.’ ছদ্মনাম ধারণ করে এবং জনপ্রিয় এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ‘স্ন্যাপচ্যাট’ ব্যবহার করে বিশাল এক অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল সে।
ঘটনার সূত্রপাত গত এপ্রিলে, নুই-সুর-সেন এলাকায় এক নামী ঘড়ি ব্যবসায়ীর ওপর আক্রমণের পর। বিষয়টি তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই তরুণের ব্যবহৃত কয়েকটি ফোনের সন্ধান পায়। ডিভাইসগুলো স্ক্যান করে বেরিয়ে আসে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য—সেখানে জমা করে রাখা হয়েছিল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাসস্থান, দৈনন্দিন চলাফেরা ও ব্যক্তিগত নানা গোপনীয় তথ্য। টার্গেটের তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এমবাপের পাশাপাশি প্যারিসের চীনা পাইকারি ব্যবসায়ী, গয়না নির্মাতা এবং ভাল-দোয়ায়েজ অঞ্চলের এক মাংস ব্যবসায়ীর তথ্যও মিলেছে।
তদন্তকারী দলের প্রধান এক বিচারিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই কিশোর গ্যাং লিডার সরাসরি কিলিয়ান এমবাপেকে অপহরণ বা তার ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট ছক কষেছিল। যদিও স্বস্তির বিষয় হলো, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই এই চক্রের সন্ধান পেয়ে যায় পুলিশ। ফলে এমবাপের ওপর সরাসরি কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে কারাগারের নিরাপত্তা বলয় টপকে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো এবং উচ্চমানের তথ্যগুলো তারা কাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিল।