ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রিপল সেঞ্চুরি উদযাপন তাওহীদ হৃদয়ের ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ঐতিহাসিক মহাকাব্য রচনা করলেন ২৫ বছর বয়সী তারকা ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। তামিম ইকবালের ছয় বছর আগের রেকর্ড ভেঙে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক তিনি।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে চা বিরতির ঠিক আগে ব্যক্তিগত ৩২৮ রানে দাঁড়িয়ে ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে হৃদয় জানতে চেয়েছিলেন, ‘আর কত লাগে?’ সেই প্রশ্নের মধ্যেই স্পষ্ট ছিল, ইতিহাস গড়ার খুব কাছে পৌঁছে গেছেন তিনি। বিরতি থেকে ফিরেই বাউন্ডারির ওপারে ছক্কা হাঁকিয়ে অধরা সেই রেকর্ড নিজের নামে লেখান এই তরুণ ব্যাটার।
হৃদয়ের এই ৩৫০ রানের অপরাজিত ট্রিপল সেঞ্চুরি কেবল একক কোনো রেকর্ড নয়, বরং এক ইনিংসে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় ক্রিকেটের বহু পুরনো সমীকরণ বদলে দিয়েছে:
বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা: ২০১৯/২০ মৌসুমে তামিম ইকবালের করা ৩৩৪* রানের রেকর্ড টপকে তিনি এখন শীর্ষে। এর আগে ২০০৬/০৭ মৌসুমে বরিশালের হয়ে রকিবুলের ৩১৩* রানের ইনিংসটি ছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি।
প্রোটিয়া মাটিতে বিদেশি ব্যাটারদের সেরা: ১৯৪৮/৪৯ মৌসুমে এমসিসির হয়ে ইংলিশ কিংবদন্তি ডেনিস কম্পটনের করা ৩০০ রানের রেকর্ড টপকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেকোনো বিদেশি ব্যাটারের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ড এখন হৃদয়ের দখলে।
বিদেশি মাটিতে যেকোনো বাংলাদেশির সেরা: ২০০৩ সালে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের করা ২১৮ রানের রেকর্ড ভেঙে বিদেশের মাটিতে যেকোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ইনিংস এখন এটিই।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ: ২০০৯/১০ মৌসুমে স্টিফেন কুকের ৩৯০ রানের পর প্রোটিয়াদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসেই এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
হৃদয়ের ঐতিহাসিক এই ব্যাটিং তাণ্ডবে ভর করে নিজেদের প্রথম শ্রেণির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে তারা, যা দলের আগের সর্বোচ্চ ৪৫২ (৯ উইকেটে) রানকে অনেক পেছনে ফেলে দেয়।
প্রথম শ্রেণিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিদেশি ব্যাটারদের শীর্ষ পাঁচ ইনিংস:
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের শীর্ষ পাঁচ ইনিংস: